ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। তার উপর ডাইক ভেঙে ডুকেছে লোকালয়ে পানি। ভারি বর্ষণে আর উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সিলেটের জকিগগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলায় লোকজন। জেলার ৫ উপজেলা ছাড়াও সিলেট সদরের নিম্নাঞ্চলের মানুষজন পানিবন্দি হয়েছেন। বীজতলা, মৎসক খামার ও পুকুর ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন কৃষক ও খামারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জে সুরমার ৬টি ডাইক ভেঙে প্লাবিত হয়েছে দু’টি ইউনিয়নের ১০ সহস্রাধিক মানুষ। ডাইক ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। তাতে তলিয়ে গেছে উপজেলার দুই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত ঘর-বাড়ির লোকজন।
সুরমার ডাইক ভেঙে যাওয়া বারহাল, মানিকপুর, কাজলসার ইউপিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে বন্ধ হয়ে পড়েছে গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ধানী বীজতলা। পুকুর ও মৎস খামার তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ফিসারি মালিকরা।

পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা থাকায় তলিয়ে গেছে জকিগঞ্জের প্রধান ডাকঘর, প্রাণী সম্পদ অফিস, স্থলশুল্ক স্টেশন, জকিগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের একাংশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
জকিগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পল্লব হোম দাস বলেন, জকিগঞ্জে কুশিয়ারার কোনো ডাইক ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি বা ভাঙেনি। তবে উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নে সুরমার ৫টি ডাইক ভেঙেছে এবং বারোহালে ১টি ডাইক ভেঙে অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এসব মানুষের জন্য তিনি জেলা প্রশাসন থেকে ১৮ হাজার মেট্টিকটন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে আপাতত শুকনা খাবারের প্রয়োজন হচ্ছে না।

এদিকে, কোম্পানীগঞ্জে বন্যায় বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা ব্যাঘাত ঘটনায় বিদ্যালয় আঙ্গিনায় জমে আছে পানি। তাছাড়া শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ লুসিকান্ত হাজং বলেন, বন্যায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে পানি নিস্কাশনজনিত কারণে জলাবদ্ধতা আছে। তবে শতাধিক ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবারের চাহিদা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে ১২ মেট্টিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে বন্টন শুরু করবেন।
এছাড়া ভারি বর্ষণে উপজেলার কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের জন্য ৭৯ মেট্টিকটন চাল ও শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে উপজেলার ৩টি সড়ক ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক, সারি-গোয়াইনঘাট, ধোপাগোল-ফতেহপুর-ডৌবাড়ি সড়ক। এছাড়া বন্যার পানিতে পুল্ট্রি খামারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাওর সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। উপজেলা সদরের অনেক জায়গার লোকজনও পানিবন্দি। আজ রোববার ২৪ টন চাল ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

তথ্য জানতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জীকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।
রোববার (১৫ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সুরমা-কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি ৪টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিন বিকাল ৩ টায় জকিগঞ্জে অমলশীদ পয়েন্টি সুরমার পানি বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কানাইঘাটে সুরমার পানি ১ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, শেওলায় কুশিয়ারার পানি ৪ সেন্টিমিটার এবং কানাইঘাটে সারি নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগামি ৩দিন (১৮ মে) পর্যন্ত সিলেটে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



