সিলেটের জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায় নিয়ে পর্যটকদের হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে ১০ টাকা ফি আদায় উন্নয়ন কমিটির নামে নীরব ‘চাঁদাবাজি’ আখ্যায়িত করেছেন সুধীজনরা।
এবার প্রবেশ ফি আদায়ের আইনী বিধি-বিধান জানতে চেয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। সেই সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় রাতারগুল ব্যতীত অন্য সকল পর্যটন কেন্দ্রে ফি আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মন্ত্রী ইমরান আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়- “বিগত ৫ মে সিলেটের জাফলংয়ে প্রবেশ ফি আদায়কে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যটকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হওয়ায় সিলেটের পর্যটনগুলো সম্পর্কে ভ্রমন পিপাসুদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।দেশে এবং বিদেশে এলাকার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। যা কখনই কাম্য নয়। তাছাড়া জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন সমূহের প্রবেশ ফি নির্ধারণ এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো আইনী বিধান জারি করা হয়েছে কিনা, তা জানা প্রয়োজন।”
চিঠিতে বলা হয়, “এমতাবস্থায় পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক পর্যটন স্পটসমুহে প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহার সংক্রান্ত নীতিমালা/ বিধি বিধান নিম্নস্বাক্ষরকারীকে অবহিত করত: আমার নির্বাচনী এলাকার পর্যটন স্পটসমূহের (রাতারগুল ব্যতীত) প্রবেশ ফি সাময়িকভাবে বন্ধকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানকে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (০৫ মে) দুপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জাফলংয়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের উপর হামলা করেন প্রশাসনের নিয়োগকৃত স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা নারী পর্যটকদেরও শ্লিলতাহানির ঘটনা ঘটান। জাফলংয়ে প্রবেশ ফি দিয়ে টিকিট কাটতে যেয়ে হামলার শিকার হন তারা। স্বেচ্ছাসেবক নামধারী যুবকরা বাঁশের লাঠি দিয়ে পর্যটকদের পেঠাতে থাকে। যুবতীরা তাদের সঙ্গীয়দের আত্মরক্ষার্থে এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর, শ্লিলতাহানি ঘটনানো হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় হামলাকারী ৫ যুবককে আটক করা হয়। পরে দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে উন্নয়ন কমিটির ধার্য্যকৃত ফি’ আদায়ের ঘটনাটিকে যথারীতি চাঁদা আদায় অভিহিত করে বিশ্লেষকরা বলেন, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কার্য পরিধির বাইরে গিয়ে পর্যটন উন্নয়ন কমিটির নামে প্রবেশ ফি রির্ধারণ প্রশাসনের এখতিয়ার বহি:র্ভূত। এর মাধ্যমে পর্যটকদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ জন্য জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পর্যটন উন্নয়ন কমিটিকে দায়ী করছেন বিভিন্ন মহল। এছাড়া পরিচ্ছন্নতার নামে ১০ টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনা জানে না জেলা পুলিশও।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



