পুড়ে গেছে শতাধিক দোকান
সিলেট: ঈদের একদিন আগেই সর্বনাশ ঘটলো সিলেটের ব্যবসায়ীদের। পাইকারী বাজারখ্যাত লালদীঘিরপাড় হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (০২ মে) ভোর রাত ৩ টার দিকে মার্কেটের ভেতরে ৫নং গলিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সব ক’টি ইউনিট সকাল ৬টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
রাত ৩টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। আগুন নেভাতে গিয়ে দেখা দেয় পানি সংকট। যে কারণে আগুনের তীব্রতা আরো বেড়ে চলে। মার্কেটের ৪/৫/৬ নং গলিতে পুরোপুরি আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। উপায়ন্ত না দেখে সিলেটের সকল উপজেলার দমকল বাহিনীর ইউনিটগুলোকে তলব করা হয়। খবর দেওয়া হয় সুনামগঞ্জ সদর-ছাতকসহ কয়েকটি উপজেলার দমকল বাহিনীর ইউনিটকে। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও পানির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কোনো সুফল মিলেনি।
দমকল বাহিনীর কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, সিলেটের তালতলা ও বটেশ্বর সেনানীবাসের ইউনিটসহ ৯টি ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ওসমানীনগরসহ সিলেটের সব উপজেলা এবং পাশ্ববর্তী জেলা সুনামগঞ্জের আরো ক’টি ইউনিটকে তলব করা হয়। এসব ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিলেও পানি সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আগুন নেভাগে গিয়ে দমকল বাহিনীর একজন সদস্যও আহত হয়েছেন।
এদিকে, আগুন লাগার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই মার্কেটের বাইরে কাঁদতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দোকান থেকে কাপড় বের করার চেষ্টা করছেন। কাপড়সহ বিভিন্ন সামগ্রি উদ্ধার করে এনে রাস্তার পাশে রাখা হচ্ছে।
লালদিঘীর পাড়ের এক ব্যবসায়ী জানান, হকার্স মার্কেটের তার প্রায় ১৫/২০টি দোকান আছে। এসব দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোকানগুলোতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালামাল ছিল।
নরসিংদীর আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার ২টি দোকান ছিল, পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও পানির ব্যবস্থা করা হলেও আগুন কোনোক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। পর্যন্ত দাউ দাউ করে হকার্স মার্কেটে আগুন জ্বলছে। আগুনে মার্কেটের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগুন নেভাতে যাওয়া দমকল বাহিনীর পানি শেষ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে দূর দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে নিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে, মানুষ যখন আগুন নেভাতে মানুষের দ্বারা অসম্ভব হয়ে দেখা দেয়। তখন প্রকৃতির আপন খেয়ালে বজ্রবৃষ্টি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



