কাতার বিশ্বকাপের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, সমর্থকদের উন্মাদনা ততই বাড়ছে। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্বকাপ টিকিটের জন্য সমর্থকদের আবেদনের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ফিফা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি চাহিদা আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিটের। মেসিদের খেলা দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটবলভক্তরা।
ফিফার তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি টিকিটের অনুরোধ পেয়েছেন তারা। আর নির্দিষ্ট ম্যাচের হিসাবে যথারীতি বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের জন্য সমর্থকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। আর তারপরই আর্জেন্টিনার গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোর জন্য টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে।
বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনার সি-গ্রুপে প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও সৌদি আরব। গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে লিওনেল স্কালোনির দায়িত্বে থাকা আর্জেন্টিনা শুধু তাদের গ্রুপ জয়ের ফেভারিটই নয়, বিশ্বকাপ জেতার ক্ষেত্রেও অন্যতম দাবিদার। তবে অভিজ্ঞতার বিচারে প্রথম চাকরি হিসেবে আলবিসেলেস্তেদের দায়িত্বে থাকা স্কালোনি বাকি পথটুকু চালিয়ে নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে!
তবে এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা আর্জেন্টিনার ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। সম্প্রতি টেলিমুন্ডো স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সিটিজেনদের বস। চলতি বছর কাতারে নিজের ক্যারিয়ারে পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলবেন সাতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা মেসি। গার্দিওলার বার্সেলোনা দলের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় ছিলেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। টেলিমুন্ডো স্পোর্টসকে স্প্যানিশ কোচ বলেন, গত বছর আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয় আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় উৎসাহ দেবে। এটি নিশ্চিত যে, এটি বিশ্বকাপে সাহায্য করবে।
গার্দিওলা বলেন, কোচ লিওনেল স্কালোনির দল দীর্ঘদিন ধরে হারেনি। জেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে হেরে না যাওয়ার অনুভূতি সবসময়ই শক্তি জোগায়, আসন্ন বিশ্বকাপে যা সহায়ক হবে।
এদিকে, চার আর্জেন্টাইন বন্ধু লুকাস দানিয়েল লেদেজমা, লিন্দ্রো ব্লাঙ্কো, সিলভিও গাতি ও সেবাস্তিয়ান রদ্রিগেজ। এ চার বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তারা সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দেবেন কাতারে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ মে দোহার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এই চার সাইক্লিস্ট।
নিজেদের সফরের বিষয়ে পেশায় শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক দানিয়েল লেদেজমা বলেন, ‘আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে ১৫টি দেশ পার হতে হবে আমাদের। এ জন্য ৬ হাজার ৫২৪ মাইল পথ সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দিতে হবে আমাদের। আশা করছি, ছয় মাসের মধ্যে আমরা কাতার পৌঁছাতে পারব, আর ২০২২ বিশ্বকাপ সামনাসামনি উপভোগ করব।’
পেশায় লেখক লিন্দ্রো ব্লাঙ্কো বলেন, ‘দেখুন ব্যাপারটা এমন না যে, আমি সাইকেলে চড়ে বসলাম আর অজানা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালাম। আমাদের এই ট্যুরটার জন্য অনেক কাজ করতে হয়েছে। মাসের পর মাস আমরা এই সফর নিয়ে গবেষণা করেছি, প্রস্তুতি নিয়েছি।’ শুধু বিশ্বকাপ উপভোগই নয়, তাদের এ সফরের পেছনে রয়েছে আরও একটি মহৎ উদ্দেশ্য। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রতি এক কিলোমিটার পরপর একটি করে গাছের চারা রোপণ করবেন এই চার সাইক্লিস্ট।
নিজেদের এই মহৎ উদ্যোগ নিয়ে লেদেজমা বলেন, ‘আমাদের এই সফরের আরও একটি মহৎ উদ্দেশ্য আছে। আমরা আর্জেন্টিনায় করদোভার পাহাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেছি। এভাবে প্রতি কিলোমিটার পরপর আমরা একটি করে গাছের চারা রোপণ করব। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা হলেও এ উদ্যোগ কাজে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’
এর আগে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতেও এভাবে সাইকেলে করে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেদেজমা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



