আইফোন চুরি ও ছিনতাইয়ের পর লক খুলতে পারতো না চোর চক্র। এজন্য তারা চোরাই আইফোনগুলো বিক্রিও করতে পারত না। বিক্রির জন্য চোরাই আইফোন লক খুলতে চুক্তিতে আইটি এক্সপার্ট ভাড়া করেছিল এ চক্রটি। আইটি এক্সপার্ট প্রকৃত মালিকের কাছে ফিশিং লিংক পাঠাতো। ফোনের মালিক সত্যিকার অ্যাপলের অফিসিয়াল লিংক মনে করে প্রকৃত আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ওই লিংকে ঢুকলেই আইক্লাউডের সকল তথ্য পেয়ে যেতো চোরেরা। এভাবেই তারা আইক্লাউডের তথ্য রিমুভ করে চোরাই মোবাইলটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতো।
ফোন চুরি ও ছিনতাইয়ের পর পুনরায় বাজারজাতে জড়িত চক্রের মূলহোতাসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. জাকির হোসেন, মো. জিয়াউল মোল্লা, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. শাহ আলম কাজল, মো. সাইফুল ইসলাম লাভলু, মো. নুর আলম, মো. আনোয়ার হোসনে নান্টু, মো. জামাল, মো. কামাল, আবব্দুল শুকুর সোহেল, আব্দুল মান্নান ওরফে সুমন, মো. নজরুল ইসলাম ও আইটি এক্সপার্ট মো. খোরশেদ আলম ওরফে রাজা। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৫৩টি মোবাইল, ২টি হার্ড ডিস্ক, ৩টি ডঙ্গল, ৪৯টি সিম ও ৩০টি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীসহ গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করে ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জনসমাগমস্থল, বাস টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন ও মার্কেটে অবস্থান করে মোবাইল চুরি/ছিনতাই করে। মোবাইল চুরির পর মোবাইলটি বন্ধ করে অন্য সদস্যের কাছে দিয়ে আবারও চুরির কাজে লেগে যায়। পরবর্তীতে চুরি করা মোবাইলগুলো সফটওয়্যার ব্যবহার করে আইএমইআই পরিবর্তন ও স্ক্রিনলক খুলে লোকাল মার্কেটে বিক্রি করে দিত।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আইফোনের লক খোলার ক্ষেত্রে এ চক্রের সদস্যরা আইটি এক্সপার্ট মো. খোরশেদ আলম ওরফে রাজার সহায়তা গ্রহণ করতো। আইফোন চুরির পর চক্রের সদস্যরা রাজার সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করতো। ‘অ্যাপল সাপোর্ট সার্ভিস’ নামে রাজা চোরাই মোবাইলের প্রকৃত মালিকের কাছে ফিশিং লিংক পাঠাতো। ফোনের মালিক সত্যিকার অ্যাপলের অফিসিয়াল লিংক মনে করে প্রকৃত আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ওই লিংকে ঢুকলেই রাজা আইক্লাউডের সকল তথ্য পেয়ে যেতো। এভাবে রাজা আইক্লাউডের তথ্য রিমুভ করে চোরাই মোবাইলটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতো।
ডিবিপ্রধান বলন, যেসব আইফোন ব্যবহারকারী রাজার পাঠানো ফিশিং লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য না দিতো সেগুলো সে কিট প্রো সাইট ব্যবহার করে ২৫/৩০ ডলারের বিনিময়ে আইক্লাউড রিমুভের রিকুয়েস্ট পাঠাতো। কখনও কখনও ব্রিলিয়ান্ট নম্বর ব্যবহার করে মালিকের কাছে ফোন দিতো। নিজেকে বিটিআরসির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে হারানো ফোনের আইক্লাউড ও স্ক্রিনলকের তথ্য সংগ্রহ করতো।
কারও আইফোন হারিয়ে গেলে ফোনে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা ও যেকোনো ফিশিং লিংকে প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন ডিবির এ কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আশরাফউল্লাহর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



