সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় গত ৫ জানুয়ারি দায়ের করা পাথর উত্তোলন ও চুরির মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি না হয়েও চার্জশিটে এক মাওলানাকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, যেসব সাক্ষীদের জবানবন্দির কারণে তার নাম চার্জশিটভূক্ত করা হয়েছে সেই সাক্ষিরাও চিনেন না তাকে। এমনকি কেউ কেউ জবানবন্দিও দেননি বলে দাবি করেছেন। এ অবস্থায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হয়রানীর শিকার দোয়ারাবাজারের নৈনগাঁওয়ের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল মজিদ। তিনি আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সিলেটের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি তার গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার স্বজনদের দ্বারা ওই কাজটি পুলিশ মোটা অংকের বিনিময়ে করেছে বলে দাবি করেন।
মাওলানা হাফিজ মজিদ অভিযোগে উল্লেখ করেন, নৌকা ও পাথর চুরির ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি ছাতক থানায় মামলা (জিআর-৩/২২) করেন এসআই হাবিবুর রহমান। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি প্রথমে এসআই মঙ্গল বিকাশ চাকমা ও পরে এসআই মাহফুজুল হাসান তদন্ত করেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এসআই মাহফুজুল হাসান ১২ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এতে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে মাওলানা মজিদকে। গত ৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। তখন বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। মামলার কোনো আসামি ও বাদিকে তিনি চিনেন না। পরোয়ানা আসার পর মজিদ ১১ এপ্রিল আত্মসমর্পন করে জামিন লাভ করেন। মজিদ আরও উল্লেখ করেন, তার গ্রামের পাশের সুরমা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক, তার ভাই মাসুক, আসুক ও ছালিক মিয়া।
২০২০ সালের ২১ নভেম্বর তিনি ড্রেজার মেশিনটি আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতার কাছে দেন। সে কারণে তারা নানাভাবে নেওয়ার হুমকী দেয়। গ্রামের ওই প্রতিপক্ষের যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে চার্জশিটভূক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করে মজিদ। তিনি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও তার নিরাপত্তার দাবি করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চার্জশিট দাখিলকারী কর্মকর্তা এসআই “মাহফুজুল হাসান” বলেন, আমার আগের তদন্ত কর্মকর্তা মঙ্গল বিকাশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে কয়েকজন সাক্ষ্যি মজিদের নাম বলেছেন।
সেজন্য তাকে চার্জশিট অভিযুক্ত করা হয়। তবে জবানবন্দিতে মাওলানা মজিদের নাম উল্লেখ করেছেন কি না জানতে চাইলে মামলার এক সাক্ষি হাদা চানপুরের বাসিন্দা তেরা মিয়া বলেন, মজিদকে চিনা তো অন্য বিষয়, আমি তো কোনো জবানবন্দি দেইনি। আরেক সাক্ষি নেছার আলী জানান, তিনি মজিদকে চিনে না।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



