সরকার ঘোষিত সাতদিন ব্যাপী কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হলো রোববার।প্রতিদিনের ন্যায় এদিন্রও নগরের রাজপথে টহল দিয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। জেলা প্রশাসনের ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত নগর ও উপজেলা সদরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেছেন। জরিমানা করেছেন আইন না মেনে বের হওয়া জনসাধারণ ও যানবাহনে। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে এদিন বেশি তৎপরতা দেখিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৯) সদস্যরা।
র্যাব’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তাদের ৩০ টিম লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত ও আইনের প্রয়োগ করে যাচ্ছে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। ছিন্নমুল মানুষকে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন
।
লকডাউন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা স্বত্বেও কায়দা কৌশল করে ঘরে থেকে মানুষের বেরোনোর প্রবণতা বন্ধ করা যায়নি। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অনেকে বাসা-বাড়ির বাইরে বেরিয়ে জেরার মুখে পড়েছেন।
কঠোর বিধি নিষেধ চলাকালে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে রাস্তায় বেরোনোয় ১৩৫ মামলার বিপরীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং যানবাহনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই দিনে ১২৬টি যানবাহনের ওপর মামলা দিয়েছে পুলিশ। জব্দ করেছে ২২৩টি যানবাহন। অভিযানে ৮৬ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিন নগরে লকডাউন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা ও দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।
এদিন দুপুরে পৃথক মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন দুই দুই যুবক। মুখে মাস্ক ও হেলমেট পরা। এরপরও পড়তে হলো জেরার মুখে। র্যাব সদস্যরা আটকে জিজ্ঞেস করলেন- কোথায় যাচ্ছেন, কি জন্য যাচ্ছেন?। যথাযথ কারণ দর্শানোর পর পার পেলেন। পাশ্বেই র্যাবের আরেক টিমের সামনে পড়লেন এক রিকশায় দুই আরোহি। তাদেরকেও জেরার মুখে পড়ে অতিক্রম করতে হলো তল্লাসী চৌকি।

সিলেটে মহাসড়কের দ্বারে র্যাবের টহল টিম। ট্রাক আটকিয়ে চালককে জিজ্ঞেস করলেন মাস্ক নেই? পরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতন করে হাতে সার্জিক্যাল মাস্ক তুলে দিলেন র্যাব কর্মকর্তা। এমন সময় নগরের প্রবেশদ্বার হুমায়ন রশিদ চত্বরে মাস্কহীন জনৈক রিকশা চালকও র্যাবের সামনে এসে অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূড়। হাতে মাস্ক তুলে দিয়ে সেটি পরতে নির্দেশনা দেন র্যাব কর্মকর্তা।
মাছের বাজারে ভীড়: কঠোর লকডাউনেও ভীড় ছিল নগরের উপশহরে মাছের বাজারে। ব্যবসা্য়ী ও ক্রেতাদের অনেককে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলতে দেখা গেছে। এমন সময় সেনাবাহিনী সদস্যরাসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আগমন দেখে নিমিষেই খালি মাছ বাজার। কিন্তু যারা উপস্থিত ছিলেন, এতোক্ষণ তাদের থুঁতনীতে থাকা মাস্ক এবার যথাযথভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়।
মাস্কহীন পথচারি: কঠোর লকডাউনে গাড়ি নেই। প্রয়োজনের তাগিদে শিশু সন্তানদের নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থেকে স্বপরিবারে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলছিলেন জনৈক ব্যক্তি। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতা মানার প্রবণতা তাদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল।
শহরতলীর বাজারে ভীড়- নগরের প্রতিটি স্থানে কড়াকড়ি। লকডাউনে কঠোরতা স্বরূপ মোড়ে মোড়ে তল্লাসী। কিন্তু শহরতলীর বাজারে এমন দৈন্যতা। দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে মানুষের এমন চলাচল ছিল অবাদে।
করোনায় ভয় নেই যাদের: তারা পথশিশু। রাত কাটে ফুটপাতে। তাদের জন্য চিন্তা নেই কারো? নিজেদের জন্যও নেই তাদের ভাবনা। মহামারি করোনার বিশেষায়তি শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পাশ ঘেষে যেতে অনেকের যখন গা ছমছম করে। অথচ হাসপাতালের সামনেই পথশিশুদের খেলা করতে দেখা গেছে। করোনায় মাস্ক না পরার বিষয়ে তারা জানায়, দোকানে গেলে একটি মাস্কের দাম চায় ১০/২০ টাকা। এই টাকা পাবো কোথায়। তখন উপস্থিত সাংবাদিক মাহমুদ হোসেন স্বপ্রনোদিত হয়ে তাদের মাস্ক কিনে দেন।

একই দিনে সিলেটের প্রবেশদ্বার দক্ষিণ সুরমা, বাইপাস সড়ক, কুমারগাঁও তেমুখী, শাহপরাণ গেইট, বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ার পাশাপাশি অনেককে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে গন্তব্যে বা কর্মস্থলে যেতে পারছেন। তবে লকডাউনে গত তিনদিনের যে চিত্র সিলেটে ছিলো চতুর্থ দিনের লকডাউনে সড়কগুলোতে যানবাহন ও জনসমাগম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



