করোনার সংক্রমন বৃদ্ধিতে সিলেটে আইসিইউ সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ রোগির ক্ষেত্রে আইসিইউ যেনো সোনার হরিণ। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় থাকা মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্বামী দেওয়া পেট্টোলের আগুনে দগ্ধ নারী রহিমা বেগমের জন্যও মিললো না আইসিইউ। এ কারণে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রহিমাকে বাঁচাতে তার পরিবার ঢাকায় নিয়ে গেছেন।
রোববার (০৪ জুলাই) বিকেলের দিকে তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন তার স্বজনরা। আহত রহিমা বেগমের ভাই রাজু আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার বোনের অবস্থা খুবই খারাপ। তার শরীরের বেশিরভাগ পুড়ে গেছে। এখানে চিকিৎসা দিয়ে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই তাকে আইসিইউতে রাখতে হবে। কিন্তু হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা খালি নেই। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি।
এরআগে ভোর ৬টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার রতুলী গাংকুল গ্রামে রহিমার পিত্রালয়ে ঘুমন্ত রহিমা বেগমের (২২) গায়ে পেট্টোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় তার স্বামী শিপন আহমদ। রহিমা গাংকুল গ্রামের রফিক মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী শিপন আহমদ উপজেলার রতুলী আরেঙ্গাবাদ গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে।
ঘটনায় অভিযুক্তের মা, দুই সহোদর ও চাচাতো ভাইকে আটক করেছেন জানিয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পরিবারিক কলহের জেরে শিপন পেট্টোল ঢেলে স্ত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেল মেকানিক শিপন আগেরদিন ঘটনাস্থল শ্বশুড় বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে রাত যাপন করে। ভোরে মোটরসাইকেল থেকে পেট্টোল নিয়ে স্ত্রীর গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শ্বশুড়ালয় থেকে জব্দ করা হয়েছে। আগুনে ওই নারীর দেহের অধিকাংশই পুড়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি।
ঘটনার পর আহত রহিমার ভাই রাজু আহমদ বলেন, প্রায় ৩ বছর আগে শিপনের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রহিমাকে নির্যাতন করতো শিপন। তাদের ঔরসজাত ২ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। মাসখানেক আগে তার বোনকে বেড়াতে এসে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সে শ্বশুড় বাড়ি যেতে অনিহা প্রকাশ করে। ঘটনাটি গ্রামের লোকজন মিমাংসা করে দেন। এরপর থেকে সে আমাদের বাড়িতে আসতে থাকে। শনিবার রাতে কাজ শেষে তাদের বাড়িতে এসে থাকে। ভোরবেলা তার বোনের শরীরে পেট্টোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। তার আর্তচিৎকারে ঘরের লোকজন ওঠে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আগুন নেভান। কিন্তু ততক্ষণে তাদের চরম ক্ষতি হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার দেহের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক তাকে আইসিই্উতে রাখার কথা বললেও আইসিই্উ সংকট রয়েছে বলে জানানো হয়। এখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টায় ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পেশায় মোটরসা্কেল মেকানিক শিপন আহমদ বখাটে হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার চলাফেরাও খারাপ লোকদের সঙ্গে। আর স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি অনেক পুরোনো ঘটনা এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও সে না সুধরানোয় স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যায়। সেখানে তাকে হত্যা উদ্দেশ্যে পেট্টোল দিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় শিপন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



