ভারতের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে হাওরের বোরো ধান ঘরে তুলতে শঙ্কায় এলাকার চাষীরা। দিনরাত পরিশ্রম করে কৃষকরা দ্রুত ধান কাটা শুরু করেছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত জানান, ফের পানি বাড়তে বাড়তে রোববার (১৭ এপ্রিল) সকালে খালিয়াজুরীর ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর মধ্যে চলতি বোরো মৌসুমে হাওর এলাকায় ৫৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলে জানায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রকল্পের আওতায় ১৪৬টি ধান কাটার যন্ত্র ভর্তুকি মূল্যে (হারভেস্টার) বিতরণ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় গত বছর ১০৫টি হারভেস্টার মেশিন কৃষকের কাছে হস্তান্তরিত হয়। এর আগের বছর বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ৭৯টি হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছিল।
খালিয়াজুরি সদর থেকে স্থানীয় মৃণাল কান্তি দেব জানান, ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার একেবারে উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফের দেখা দিয়েছে হাওর এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক। এর মধ্যে উপজেলায় ব্রি-২৮ জাতের ৯০ শতাংশ কাটা হলেও ব্রি-২৯ জাতের ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে ।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফসল রক্ষা বাঁধগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফসল কাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করে এক-দুই দিনের মধ্যে নেমে গেলে শঙ্কামুক্ত থাকা যাবে। কয়েক দিন এই লেভেলে পানি থাকলে বাঁধগুলো হুমকির মধ্যে পড়ে যাবে। এলাকাবাসীর তখন কিছু করার থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, খালিয়াজুরীতে ২০ হাজার ১২০ হেক্টরে জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান আবাদ হয়েছে। হাওর এলাকায় ১৮ হাজার ৯শ হেক্টরের চাষকৃত ধানের মধ্যে ১০ হাজার ৮৬২ হেক্টরের ফসল কাটা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৯৯৮ হেক্টরে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় আবাদ ছয় হাজার ৫০০ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাওরে চার হাজার ৬১৫ হেক্টরের ধান কর্তন হয়েছে। উপজেলার মোট আবাদের মধ্যে কর্তন পাঁচ হাজার ১১৫ হেক্টর জমির ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এফ এম মোবারক আলী জানান, চলতি বছরে জেলায় এক লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। জেলায় হাওর এলাকায় এর পরিমাণ ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাওরে ২১ হাজার ২শ হেক্টরের জমির ধান কাটা হয়েছে। ৫৪ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়ছে।
নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত জানান, ধনু নদীর পানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এভাবে অব্যাহত থাকলে রবিবার সন্ধ্যা বা রাতেই ২০ সে.মি. বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে হাওরে প্রায় ৫৪ শতাংশের মতো ধান কাটা হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি ও এর চাপ যদি দীর্ঘায়িত হলে তা বাঁধের জন্য চিন্তার ও মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সারাবাংলা
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



