সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা উপেক্ষিত।যানবাহনেও নিয়ন্ত্রণ নেই। উপরন্তু নগরময় বিভিন্ন সড়কে লেগেছে যানজট। সরকার ঘোষিত সীমিত পরিসরে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও সিলেটে ঠিক উল্টো চিত্র। করোনা থেকে সুরক্ষায় সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে শুরু হয় লকডাউন।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকাল থেকে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও লকডাউনে মার্কেট বন্ধ থাকলেও সড়কে যানবাহনের দৌরাত্ম চলছে। নগরময় যানজটের সঙ্গে চলছে জনজট।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সারাদেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ছাড়া সব গণপরিবহন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও উল্টো চিত্র সিলেট নগরে। দূর পাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সিলেটের সড়কগুলো এখন সিএনজি অটোরিকশার দখলে।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তল্লাসী চৌকি থাকলেও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে যানবাহন আটকালেও যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশ।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরের বিভিন্ন সড়কে হালকা ও মধ্যম সারির যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অনীহার চিত্র ফুটে ওঠেছে। অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও তা থুঁতনীতে ঝুলানো। অনেকের মুখে মাস্কও নেই। আর জীবন জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষে বেরিয়েছেন আয়-রোজগারে।
সকাল থেকে নগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়াতে অটোরিকশাই মানুষের চলাচলের সম্বল হয়ে ওঠে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন চালকরাও।
যাত্রীদের অভিযোগ, অটোরিকশা চালকরা সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ১০ টাকার ভাড়া ২০-৩০ টাকা আদায় করেছেন। রিজার্ভ যেতে গেলে ৫০/১০০ টাকার স্থলে লাগছে ২০০/২৫০ টাকা। একইভাবে রিকশা ভাড়াও হয়েছে দ্বিগুণ, তিনগুণ বেশি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
এছাড়া ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা গেছে। সেইসাথে উবারের অ্যাপস বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল রাইডাররা অনলাইন ছাড়াই পয়েন্টে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে চুক্তিতে যাত্রী পরিবহণ করতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের দৌরাত্ম চলছে রাজপথে। উপায় না পেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে পৌছাতে হয়েছে গন্তব্যে।
তবে সীমিত পরিসরের করোনার দ্বিতীয় দিনে জনগণকে লকডাউন মানাতেও যথেষ্ট তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের।
তিনি বলেন, মহানগরী এলাকায় পুলিশের ১৬টি টিম কাজ করছে। মাঠ পর্যায়ের থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছে। সিলেটের অভ্যন্তরে প্রবেশ ও বের হওয়া ঠেকাতে পুলিশ সর্তক রয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ফলে সোমবার (২৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া তিনদিনের সীমিত পরিসরে লকডাউন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সীমিত পরিসরের লকডাউনের পর দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বিধিনিষেধ চলাকালে পণ্যবাহী যান ও রিকশা ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত খোলা থাকবে। কেবল বন্ধ থাকবে শপিংমল, মার্কেট, বিনোদন কেন্দ্র। হোটেল-রেস্তোরাঁয় খোলা থাকলেও বসে খাওয়া যাবে না।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



