সিলেট নগরের ছড়ারপার ও মাছিপুরবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ ২৩ জনসহ অন্তত অর্ধশত লোকজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অনেককে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (০৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে ছড়ারপাড় এলাকার লোকজন গুলিবর্ষণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পক্ষান্তরে মাছিমপুরের লোকজন প্রতিহত করতে গিয়ে পাল্টা হামলা চালায়।এসময় ছড়ারপাড়ের হামলাকারীরা সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বাসায় আশ্রয় নেয়।এমন সময় মাছিমপুরের লোকজন সাবেক সিটি মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় বাসার জানালার গ্লাস ও পার্কিংস্থলে রাখা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গুলি বর্ষণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোকজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আহতদের ২৩ জনকে ওসমানীতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মামুন, ইয়াসিন, আকাশ, মুন্না, লুৎফুর হোসেন, সুমন, মারুফ, উজ্জল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের ড্রেনের কাজ নিয়ে মাছিমপুর এলাকার জনৈক হান্নান মেম্বারের ছেলে অপি’র সঙ্গে ছড়ারপারের চাঁদ মিয়ার ছেলে সাহেদ ও অপর এক যুবক জুনেদের মোটরসাইকেলে আসা-যাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবারে। বিষয়টি জানতে পেরে সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম ও পাশ্ববর্তী ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ উভয় পক্ষকে শান্ত করে দু’এক দিনের মধ্যে সালিশ বৈঠকে বসে বিরোধ নিস্পত্তির উদ্যোগ নেন। এরই জের ধরে বুধবার (০৬ এপ্রিল) বিকেলে আবারো ছড়ারপাড় ও মাছিমপুরের দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছড়ারপাড়ের কতিপয় যুবক ব্রীজে উঠে মাছিমপুরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এর জবাবে মাছিমপুরের লোকজনও তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরবর্তীতে ছড়ারপাড়ের যুবকরা সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বাসার ফটকে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাছিমপুরের লোকজনকে ধাওয়া করে। পাল্টা মাছিমপুরের লোকজন তাদের ধাওয়া করলে তারা দৌড়ে এসে সাবেক মেয়রের বাসভবনে প্রবেশ করে। তখন মাছিমপুরের লোকজনের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সাবেক মেয়রের বাসার জানালার গ্লাস, পার্কিংস্থলে রাখা গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়।

এরপর ছড়ারপাড়ের কতিপয় যুবক অজ্ঞাত স্থান থেকে গুলি বর্ষণ করতে থাকেন। এতে মাছিমপুর এলাকায় অন্তত ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ইটের আঘাতেও উভয় পক্ষের আরো অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। তবে গুলিতে আহতদের সকলে মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা নিশ্চিত করা হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম ও ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



