রোজা এলেই কদর বাড়ে কাঁচা মরিচের। শাক, শবজ্বি থেকে ইফতার তৈরীর প্রায় সব সামগ্রিতে লাগে কাঁচা মরিচ।
আর ভাতের সঙ্গে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ কাঁচা মরিচ খাওয়ার প্রবণতা সব জেলাতেই আছে। কিন্তু রোজা এলেই সেই কাঁচা মরিচের ঝাঁজ বেড়ে যায় অর্থাৎ দাম বেড়ে হয়ে যায় দ্বিগুন, তিনগুন।
এবারো দ্রব্যমূল্যের যখন উর্ধ্বগতি, তখন কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে বেড়ে গেছে ৩ গুণের কাছাকাছি।
রোজার দু’দিন আগেও সিলেটের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজি ছিল ৫০/৬০ টাকা। রমজান মাস শুরু হতেই এখন কাঁচা মরিচের কেজি পৌছে গেছে দেড়শ’ টাকায়।

সোমবার (০৪ এপ্রিল) সিলেটের রিকাবি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে কাঁচা মরিচের কেজি ১৫০ টাকা চাচ্ছেন। দাম করা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতার মধ্যে মৃদু কথা কাটাকাটিও হয়।
এদিন বিভিন্ন কাঁচা মালের দোকান ঘুরে দেখা যায়, রোজায় প্রয়োজনীয় এমন সব কাঁচা মালের দাম দ্বিগুন, তিনগুন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।কাঁচা মরিচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শসা, গাজর ও বেগুনের দাম। রোজার একদিন আগে শসা ও গাজর ছিল ৪০ টাকা কেজি। এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। আর বেগুন ছিল ৩০ টাকা। সেই বেগুন এখন ৭০ টাকায় পৌঁছেছে।
ক্রেতারা বলেন, রোজার আগে লেবুর হালি ৩০ টাকা ছিল। রোজা আসতেই ৮০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ৩৫ টাকা থেকে হয়েছে ৭০ টাকা। আবার কোনো কোনো বাজারে এক কেজি টমেটো ১০০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে।
নগরের রিকাবিবাজার থেকে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা নগরের লামাবাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, রোজার দু’দিন আগেও কাঁচা মরিচ ৫০/৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেছে। রোজা আসতেই কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দেড়শ’ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। যেনো কোনো ধরা-বাধা নেই।
নগরের রিকাবিবাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, কাঁচা মরিচের দাম কম ছিল ঠিকই। কিন্তু পাইকারী আড়তে দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। একইভাবে রোজায় প্রয়োজনীয় সব কাঁচা মালের দাম অত্যধিক বেড়েছে।

শাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম রুদ্র ৮০ টাকায় এক হালি লেবু কিনে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটার্স লিখেন-‘আলামদুলিল্লাহ! ৮০ টাকায় এক হালি লেবু কিনেছি। বরকতের মাস এসেছে, বিক্রেতাও খুশি হয়েছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রোজায় দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন থেকে ৫টি বাজার মনিটরিং টিম মাঠে নেমেছে। ওই টিমগুলোর নেতৃত্বে আছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোবারক হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সত্যজিত রায় দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আনোয়ার সাদাত।
অভিযানিক দলগুলো মাঠে নেমে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন এবং ক্রয় মূল্যের পাশাপাশি পাইকারী মূল্য ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা দেন। অভিযানকালে পাঁচ দোকানীকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
অভিযানিক দলের সদস্যরা বলেন, আমরা সবাইকে সতর্ক করছি। যাতে কেউ বেশি মূল্য না রাখেন। আর সবাইকে মালামাল ক্রয়ের ম্যামো রাখা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। কেউ নিয়ম না মানলে জেল-জরিমানার আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



