সিলেটে প্রকাশ্যে সড়কের উপর বাবাকে মেরে রক্তাক্ত করলেন আমেরিকা প্রবাসী ছেলে। বাবার অঢেল সম্পত্তির লোভ ও ৪র্থ বিয়েতে দ্বিমত পোষন করায় জুম্মার নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথেই বাবার উপর হামলা করেন ছেলে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) জুম্মার নামাজের পর নগরের মীরের ময়দান বাংলাদেশ বেতার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাবেক ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার মতলুবুর রহমান চৌধুরী সিলেট নগরের পশ্চিম পীর মহল্লা ১৪/৪০ বাসার বাসিন্দা। তাঁর গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ দুবাগে।
আহতাবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর অভিযুক্ত ছেলে আলমগীর চৌধুরী বাবুকে আটক করে কোতোয়ালি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

রক্তাক্ত বাবা, পেছনে কালো শার্ট পরিহিত আটক ছেলে।
আহত মতলুবুর রহমান বলেন, তিনি ছেলের হেফাজতে এতোদিন জিম্মি ছিলেন। জুম্মার নামাজ পড়তে হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মাজার মসজিদে তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার যোগে (ঢাকা মেট্টো-গ-১৯-৪৩৫২)নিয়ে আসে ছেলে। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ছেলে আলমগীর চৌধুরী বাবু পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে গাড়ি আটকিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। তখন পরনের ফতোয়ার কলার চেপে গাড়ির ভেতরে মেরে তাকে রক্তাক্ত করে। এতে তার মাথা ও চোখের কোনে ফেটে রক্তাক্ত জখম হন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও পারছিলেন না। পরে আশপাশের লোকজন ও মসজিদের মুসল্লীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
নিজে নিরাপত্তাহীন দাবি করে ছেলের হাত থেকে উদ্ধারে সহায়তা চেয়ে মতলুবুর রহমান বলেন, আমেরিকা প্রবাসী বখে যাওয়া তার ছেলে এ যাবত ৩ বিয়ে করেছে। আবারো বিয়ে করতে এসেছে। তাতে তিনি বাধা দেন। এ ঘটনা ছাড়াও সম্পত্তির লোভেও তার উপর ছেলে নগ্ম হামলা করে।

বাবাকে রক্তাক্ত করে জনরোষের কবলে আমেরিকা প্রবাসী আলমগীর চৌধুরী বাবু।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃদ্ধ মতলুবুর রহমানকে তার ছেলে কলার চেপে গাড়ির ভেতর মারধর করছিল। ঘটনাটি দেখতে পেরে রাস্তার অপর পাশে অবস্থিত কিউসেট মসজিদের মুসল্লী ও পথচারিরা ছুটে এসে বৃদ্ধ মতলুবুর রহমানকে উদ্ধার করেন।
এমন সময় কৌতুহলী লোকজন জড়ো হয়ে বৃদ্ধকে মারধরের প্রতিবাদ করলে হামলাকারী আলমগীর নিজেকে আমেরিকা পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং বলেন, আমার কাজে হস্তক্ষেপ করলে আমেরিকা পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে।
স্থানীয়রা বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে ছেলে আলমগীর চৌধুরী বলেন, তার বাবা দুই বিয়ে করেছেন। তিনি হিসেবে তাকে শাসন করছিলেন। এটা নিজেদের ফ্যামিলি ম্যাটার, কাউকে নাক না গলাতে নিষেধ করেন তিনি।
পক্ষান্তরে তার বাবা উপস্থিত লোকজনকে বলেন, ‘আমি সরকারি কর্মকর্তা (ফরেস্টার) ছিলাম। আমাকে আপনারা তার হাত থেকে রক্তা করুন। সে আমাকে জিম্মি করে রেখেছিল। আমাকে মেরে ফেলতে চায়। উপস্থিত লোকজন ঘটনাটি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বৃদ্ধ মতলুবুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য তার ভাতিজা নাঈম চৌধুরীর সঙ্গে হাসপাতালে পৌছান। আর আলমগীরকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

ছেলের মরধরে আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন মুসল্লীরা।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ বলেন, জন্মদাতা বাবাকে মেরে ছেলে রক্তাক্ত করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ঘটনায় ছেলেটির বাবা বাদি হয়ে মামলা দিলে পরবর্তীতে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলমগীর চৌধুরী এ যা্বত ৩ বিয়ে করেছেন। দেশে মেয়েদের বিয়ে করে প্রবাসে গিয়ে তালাক দিয়ে দেন। আগের স্ত্রী মারা যাওয়ায় বৃদ্ধ মতলুবুর রহমানও আরেকটি বিয়ে করেছেন।
তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের দক্ষিণ দুবাগ গ্রামের লোকজন বলেন, বিয়ে করে তালাক দেওয়া তাদের নেশায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি আলমগীর ও তার ভাই দেশে ফিরে আবারো বিয়ে করতে চান। এ অবস্থায় আমেরিকান পাসপোর্ট দেখিয়ে পাত্রীর সন্ধানে রয়েছেন তারা।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



