সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় আহত হিফজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নয়টি আলামতের পরিপ্রেক্ষিতে হিফজুর রহমানকে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনার পর্যবেক্ষণ ফোন কললিস্ট তুলে দেখলাম ভোররাতে হিফজুর ৩ জন মানুষকে মোবাইলে ফোন করেন। প্রথমজনকে পান দেওয়ার কথা সকালে। তাকে বলে আমি পান দিতে পারবোনা, অসুস্থ বোধ করছি। দ্বিতীয় জনকে বলেন, ভাই- তুমি একটু সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে আসো, আমি অসুস্থ বাইরে যাবো। তৃতীয়জনকে বলেন, তৃতীয় ব্যক্তিকেও বলেন, আমি অসুস্থ, আমাকে নিয়ে যাও। কিন্তু স্ত্রী সন্তানকে হত্যার কথা কিছুই বলেননি। এই ফোনগুলো করা হয়েছে ভোর ৫টা ১৭,৩৭ ও ৩৮ মিনিটে।
তাছাড়া ঘটনার পরের একটি ছবিতে দেখা গেছে হিফজুর রহমান নিজের স্ত্রী ও সন্তানের উপরে অনেকটা শুয়ে আছেন। তা পা অন্যদের গায়ের উপর। তার পায়ে মাটি লাগানো। তাতে অনুমেয় হত্যার সময় সে অনেকক্ষণ ঘুরাফেরা করেছে ঘরের ভেতরে। এছাড়া ঘরে একমাত্র আলামত পেয়েছি বটি দা। বটিদা’য় শুধুমাত্র রক্তের দাগ ছিল।
বাচ্চাদের ঘাঢ়ে কুপগুলো এবড়ো-তেবড়ো। সাধারণ বটি দা দিয়ে কুপালে এটা সম্ভব। আমরা পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা করাচ্ছিলাম। তখন বলে, আমার বাসায় অনেকগুলো মাছ এসেছিল। সেগুলো কেটেছি। তাছাড়া চিকিৎসক তার কোনো মানসিক সমস্যা খোজে পাননি।
নিহত আলিমা বেগম ৫ মাসের অন্ত:স্বত্বা ছিলেন। আলিমার সঙ্গে পেটের বাচ্চাটিও মারা গেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ৯টি আলামত থেকে হত্যার ঘটনায় হিফজুরকে গ্রেফতার দেখাচ্ছি। এরমধ্যে প্রথমত; ঘটনার সময় বাইরে থেকে কোনো লোক ঘরের ভেতরে ছিল বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত; ঘরের দরজা বাইরে থেকে ভাঙার আলামত নেই। তৃতীয়ত; স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ ছিল। চতুর্থত; হিফজুর প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হতেন পানের টাকা উঠাতে। যার সঙ্গে যাওয়ার কথা তাকে ফোন করে বলেছেন পানের টাকা নিতে আজকে যেতে পারবো না। পঞ্চমত; সে ভোররাতে ৩ জনকে ফোন করে বলেছে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা। ৬ষ্টত; তার মানসিক সমস্যার কথা বলা হলেও চিকিৎসকরা মানসিক সমস্যার খোঁজে পাননি। সপ্তমত; তার দেহের আঘাত গভীর না, সেগুলো নিজে নিজেই করা সম্ভব, মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা। অষ্টতম; তার ঘরে কেউ ঢোকলে আগে তাকে মারার কথা। নবম বাসার সকলের উপর সে অচেতন অবস্থায় পড়া ছিল, তার পায়ে মাটি ছিল, তাতে বুঝা হত্যার সময় সে হাটাহাটি করেছে। তাতে বুঝাযায় হত্যাকাণ্ড সেই ঘটিয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, তবে হাসপাতালে ঘুমের ঘরে অনেকটা প্রলাপ করেছে ঘরে সে অনেক মাছ কেটেছে। হিফজুর এখনো চিকিৎসাধীন। তবে আশঙ্কামুক্ত, তাই তাকে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার দায়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গত বুধবার (১৬ জুন) ভোরে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় বসতঘর থেকে দুই শিশুসহ গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- উপজেলার ফতেহপুরের বিন্নাকান্দি ফুলেরতল গ্রামের হিজবুর রহমানের স্ত্রী আলেমা বেগম (৩৫), ছেলে মিজান (৮) ও মেয়ে তানিশা (৫)। এসময় ঘর থেকে গুরুতর অবস্থায় গৃহকর্তা হিজবুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার মধ্যরাতে নিহত আলিমা বেগমের বাবা আয়ুব আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় হিজবুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



