কানাইঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পা বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আফতাব উদ্দিন ( ৪৯) জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার ( ২২ মার্চ ) দুপুরের দিকে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে আজ ( ২৩ মার্চ ) সকালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এদিকে দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় এই ইউপি সদস্যকে এ ঘটনার সাথে জড়িয়ে গ্রেফতার এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তাদের ধারনা, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহলের প্ররোচনা এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তাকে আটক এবং পরে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছিল।

জানা গেছে, ছত্রপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে মৃত এবাদুর রহমান ও মৃত খলিলুর রহমানের গোষ্ঠির মধ্যে বিরোধ চলছিল। তার জেরে প্রায় দু’বছর আগে এবাদুর রহমান ও খলিলুর রহমানের গোষ্ঠির সাথে মারামারিতে নিহত হয়েছিলেন এবাদুর রহমান। এ ঘটনায় কামাল উদ্দিনসহ তার পক্ষের বহুলোকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় কামাল উদ্দিন প্রায় ৮ মাস জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
তবে এবাদুর রহমানে গোষ্ঠির লোকজন প্রতিশোধ পরায়ণ ছিলেন। এ ব্যাপারে থানায় ২/৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
গত শনিবার ( ১৯ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে বাজারে যাওয়ার পথে কামাল উদ্দিনকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার উপর হামলা চালায়। গ্রামের ফয়জুল হকের ছেলে মামুন মিয়াসহ তার পক্ষের ৮/১০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে মারধোর শুরু করে। হামলায় কামাল উদ্দিনের পায়ের গোড়ালী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে কানাইঘাট থানা পুলিশ মামুনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি মৃত্যুশয্যায় বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী সেলি বেগম।
এ ঘটনায় পরদিন ২০ মার্চ কানাইঘাট থানার ছাত্রপুর গ্রামের করিম উদ্দিনের ছেলে শিবলু মিয়া, মৃত আলীম উদ্দিনের ছেলে সেলিম আহমদ ( ২৭), আলা উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ (২৪), মৃত হবিবুর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৬২), মৃত ফয়জুল হকের ছেলে মামুন মিয়া (৪০) ও উত্তর বানীগ্রাম গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে রোমান মিয়া (২১) এবং ছত্রপুর গ্রামের মামুন মিয়ার স্ত্রী ফাতেহা বেগমসহ (৩৬) অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ( নম্বর-১৯/২০/৩/২২) আহত কামালের স্ত্রী সেলি বেগম (৩৫)।
মামলার বিবাদী হিসাবে ইউপি সদস্য আফতাবের নাম উল্লেখ না করলেও পূর্ব শত্রুতার জেরে দায়েরকৃত মামলাগুলোর ব্যাপারে আপোষ মিমাংসার জন্য আফতাবের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেলি। তাছাড়া কামাল উদ্দিনকে আফতাব উদ্দিনসহ বাদীরা হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাচেষ্টা।
তবে মামলার এজাহারের ব্যাপারে সেলি বেগম জানান, এজাহার তিনি লিখেন নি। কেবল সই করেছেন। তিনি মেম্বারকে ঘটনাস্থলে দেখেন নি, তাই বিবাদী হিসাবে তার নামও উল্লেখ করেন নি। পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করেছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ইউপি সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, আমি ঠিক জানিনা কোন অপরাধে আমাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলো? আমার দোষটা কি? একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে ওয়ার্ডবাসীর সমস্যায় তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়। উভয় পক্ষের বিরোধ মেটাতে চেষ্টা করে আমি ব্যর্থ হয়েছি। এরপর হঠাৎ এই হামলার ঘটনা ঘটার পর আমাকে পুলিশ ডেকে নিলো। তারপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দিন থানায় আটক রাখলেও কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। হঠাৎ ২২ মার্চ আমাকে আদালতে তোলা হলো। আদালত আমার জামিন মঞ্জুর করেছেন। আমি বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু বিনাদোষে কেন আমাকে এই হয়রানি করা হলো? এ প্রশ্নের জবাব কে দিবেন?
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার এসআই মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রাথমিক তদন্তে ইউপি সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালত জামিন দিলে সেটা আদালতের ব্যাপার।
নিজেদের ব্যার্থতা ঢাকতে মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয়েছে- এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি। অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে, ইউপি সদস্য আফতাবের জামিন প্রসঙ্গে সিলেট জেলা জজকোর্টের আইনজীবী সিরাজুল হক বলেন, তার জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃত অপর দুই আসামী জামিন চাননি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



