সিলেটের গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত গৃহবধূ আলিমার দেহে ৯টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এগুলোর একটিই তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। এরপরও ঘাতক এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সেই সঙ্গে মৃত্যু ঘটে আলিমার গর্ভজাত ৫ মাসের কন্যা সন্তানের।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেসনিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আলিমার গর্ভে ৫ মাসের কন্যা সন্তান ছিল। একটি আঘাতে আলিমার লিভার কেটে গিয়ে গর্ভজাত সন্তানেরও মৃত্যু হয়। বুকের আঘাতে পাজড় কেটে হার্টে গিয়ে ধরেছে। মাথার আঘাতটিও ছিল গুরুতর। এসব আঘাতের যেকোনো একটিই মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল।
এছাড়া ৮ বছর বয়সী ছেলে মিজানের ঘাঢ়ের দিক থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাড় ও খাদ্যনালী কেটে চামড়ায় ঝুলেছিল। ৪ বছর বয়সী মেয়ে তানিশার চার বছরের বাচ্চার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে বলেও নিশ্চিত করেছেন এই চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ তিনটির ময়না তদন্ত করেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল হেলাল।
মরদেহ তিনটির ছুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুকারী গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) দিলীপ কান্ত নাথ বলেন, দুই শিশুসহ মায়ের দেহে অন্তত ১৭টি কুপ পাওয়া গেছে মর্মে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে গৃহবধূ আলিমার দেহে ৯ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তন্মধ্যে মাথায় ২টি গুরুতর আঘাত। বাম বাহুতে একটা, বুকে একটি আঘাতে পাজড় কেটে গেছে। এছাড়া পেটে ও পীঠে ৫টা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মাথায়, লিভার ও হার্ট পর্যন্ত আঘাত পাওয়া গেছে। প্রত্যেকটা আঘাতই গুরুতর।
তিনি আরো বলেন, ৮ বছরের শিশু সন্তান মিজানের ডান গালে ১টি, থুঁতনিতে ১টি, বাম কানের নীচ থেকে ডান কানের কাধের নীচ পর্যন্ত গভীর আঘাত করা হয়েছে। ৪ বছরের শিশু মেয়ের মাথায় ২টা গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। আরেকটি ঘাঢ়ে। সেটি ছিল মারাত্বক। তাছাড়া আহত হিফজুরের মাথায় ১টি ও পায়ে ২টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো হালকা জখম। ময়না তদন্ত সম্পন্ন শেষে নিহতদের মরদেহ আলিমার বাবা আয়ুব আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, গর্ভজাত সন্তান হত্যার বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, গর্ভজাত সন্তান হত্যার বিষয়টি এই তিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্তর্ভূক্ত থাকবে। তাতে ৪টি হত্যার ঘটনা হবে না।
বুধবার (১৬ জুন) ভোরে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় বসতঘর থেকে দুই শিশুসহ গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- উপজেলার ফতেহপুরের বিন্নাকান্দি ফুলেরতল গ্রামের হিজবুর রহমানের স্ত্রী আলেমা বেগম (৩৫), ছেলে মিজান (৮) ও মেয়ে তানিশা (৫)। এসময় ঘর থেকে গুরুতর অবস্থায় গৃহকর্তা হিজবুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার মধ্যরাতে নিহত আলিমা বেগমের বাবা আয়ুব আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



