এছাড়াও নিহত আলেমা বেগমের সঙ্গে তার স্বামী হিজবুরের কলহ লেগেছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। আগামি রোববার শ্যালিকার বিয়েতে যাওযা নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। এ থেকে সন্দেহ নিজেদের মধ্যে ঘটনাটি ঘটলো কিনা? যে কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই বিষয়গুলোকে ইঙ্গিত করেছেন।
বুধবার (১৬ জুন) ভোরে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটে ফতেহপুর বিন্নাকান্দি ফুলেরতল গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন- ফতেহপুরের বিন্নাকান্দি ফুলেরতল গ্রামের হিজবুর রহমানের স্ত্রী আলেমা বেগম (৩৫), ছেলে মিজান (৮) মেয়ে তানিশা (৫)। ঘটনাস্থল ঘরের ভেতর বিছানা থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় হিজবুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট রেঞ্জের উপ উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম ও সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করতে চেয়েছিল। এরমধ্যে মা, মেয়ে ও ছেলে ৩ জন নিহত হয়েছেন। কেবল গৃহকর্তা হিজবুর বেঁচে আছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কে বা কারা কি কারণে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো জানান যায়নি।
ঘটনার পর সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা্ আব্দুল আহাদ বাংলানিউজকে বলেন, নৃশংস কায়দায় ঘুমের ঘরে একই পরিবারের ৩ জনকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গৃহকর্তা হিজবুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের বিছানায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ঘুমের ঘরেই মা, ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাংলানিউজকে বলেন, গুরুতর অবস্থায় হিফজুরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। এখনো তার জ্ঞান ফিরেনি।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে ঘরের বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠতে দেরি হচ্ছে দেখে ডাকতে যান প্রতিবেশিরা। ঘরে পাশে যেতেই ঘুঙরানির শব্দ শুনতে পেয়ে দরজা ধাক্কা দিলে ঘরে ঢোকেই চারিদিকে রক্তের ছোপ দেখেন। প্রতিবেশিদের আর্তচিৎকারে অন্যান্য প্রতিবেশিরাও ছুঁটে আসেন। খবরটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে দুর দুরান্ত থেকেও গ্রামের লোকজন বাড়িতে ভীড় করে। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করেছে। তবে কি কারণে পরিবারটি নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার,তা কেউ অনুমান করতে পারছেন না।