সিলেটে পরকীয়ার বলি আইনজীবী আনোয়ার হোসেনের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। বুধবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিনের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পূুণরায় দাফন করা হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের মরদেহ সদর উপজেলার শিবের বাজারের দীঘিরপাড় গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তোলা হয়। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ ফের দাফন করা হয়।
দুই সন্তানের জনক আনোয়ার হোসেন নগরের তালতলা এলাকায় স্বস্ত্রীক বসবাস করতেন। গত ৩০ এপ্রিল বিকেল তিনটায় শিপা বেগম স্বজনদের ফোন করে নিহতের স্বজনদের বলেন, ডায়বেটিস কমে গিয়ে তার স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় পরকীয়া প্রমিক শাহজাহান চৌধুরীকে বিয়ে করায় স্বজনদের সন্দেহ হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে ০২ জুন সিলেটের আদালতে দরখাস্ত মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি (নং-৩ (৬)২০২১) রেকর্ড করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মামলায় শিপা বেগম ছাড়াও আরো সাত জনকে আসামি করা হয়েছে।
এরপর গত ৩ জুন শিপা বেগমকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমাণ্ড আবেদনে করে পুলিশ। শোনানী শেষে বিচারক শিপা বেগমের ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে শিপাকে আদালতে হাজির করা হলে জবানবন্দিতে বলেন, তার স্বামীকে ১০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেন।
শিপা বেগম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামের আজমল আলীর মেয়ে। আর তার স্বামী নিহত আনোয়ার হোসেন (৪২) সিলেট জেলা বারের আইনজীবী ও সিলেট সদর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার মৃত রেসালত হোসেনের ছেলে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় শিপা বেগম ছাড়াও মামলায় আরো সাত জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় পরকীয়ায় জড়িয়ে বিয়ে করা শিপা বেগমের বর্তমান স্বামী খালাতো ভাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি রহমত আলীর ছেলে শাহজাহান চৌধুরীকে মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন, শিপা বেগমের মা রাছনা বেগম (৫০), নগরের রায়নগর ১০৪ বাসার মোতাহির আলীর ছেলে এনামুল হাসান (৪৫), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে এসএম জলিল (৩৫), সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন কালাগুল এলাকার কালা মিয়ার ছেলে জাকির আহমদ (২৫), সিলেটের গোয়াইনঘাটের ছোটখেল গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে ফয়ছল আহমদ (২৬) ও নগরের সুবিদবাজার লন্ডনী রোডের বাসিন্দা নাইমার (২৫)।
এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...