রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তরে উপকণ্ঠে চলে এসেছে। শহর থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে তারা অবস্থান নিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ সৈন্যরা কিয়েভ থেকে ২০ মাইল দূরে আন্তোনভ বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বলে সকাল থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিমান ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা থেকে করা মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক সিএনএনের লাইভ রিপোটিং চলার সময় রুশ প্যারাট্রুপারদের চোখে পড়ছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যা ধারণা করেছিলেন, রুশ সৈন্যরা তা চেয়ে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছেন।
রাশিয়া এখন কী করবে-এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কিয়েভের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এখন রুশ প্যারাট্রুপাররা হয়তো অগ্রসরমান রুশ সাঁজোয়া বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করবে। নয়তো ওই ঘাঁটি থেকে নিজেরাই কিয়েভের ওপর হামলা শুরু করবে। ব্যাপারটি যেকোনো সময় ঘটতে পারে।

ইউক্রেনের সামরিক ঘাটিতে বিমান হামলা। ছবি-সংগৃহিত
কিয়েভে এখন জরুরি অবস্থা চলছে। রুশ বিমান হামলার ভয়ে মাঝে মধ্যে সাইরেন বাজছে। মানুষজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। অনেকে পাতাল রেল স্টেশনগুলোতে গিয়ে বসে আছেন। সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভ ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন।
এর আগে মস্কোর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা ইউক্রেনের সেনা স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমান বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আরআইএ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করছে।

দফায় দফায় হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেন। ছবি-সংগৃহিত
ইউক্রেনে প্রথম দিনের অভিযান সফল- পুতিন:
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমার জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি হোস্টোমেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনারা। পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বৈশ্বিক পরাশক্তি রাশিয়া। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত, ক্রিমিয়া ও রাজধানী কিয়েভে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। পাল্টা প্রতিরোধের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনও। তুমুল লড়াইয়ের পর চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্র দখলে নিয়েছে রাশিয়া।
সামরিক অভিযানে ইউক্রেনের ৭৪টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। এর মধ্যে ১১টি বিমানঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের সামরিক হেলিকপ্টার, রাডার স্টেশন ও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রুশ বাহিনী। রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তরে তাদের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়েছে। ইউক্রেনের সীমান্ত রক্ষীরা বলছেন, সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভ থেকে শহর অভিমুখে কম উচ্চতায় একাধিক হেলিকপ্টারকে উড়তে দেখা গেছে। আর ন্যাটো সদস্য ও রুশ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে সীমান্ত থাকা পূর্ব ইউরোপীয় দেশ লিথুয়ানিয়া জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

চেরনোবিল পরমানু কেন্দ্র দখল! ছবি-সংগৃহিত
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির এমপিরা। রুশ হামলাকে গোটা ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা বলছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমার জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি হোস্টোমেলের নিয়ন্ত্রণ রুশ সেনারা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমার জেলেনস্কি।রাজধানী কিয়েভের কাছের এই বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তবে ইউক্রেনে হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন রাষ্ট্র। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিযানকে ‘বিনা উসকানিতে হামলা ও অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রাশিয়ার সেনাদের ফিরিয়ে নিতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে রাশিয়াকে উসকে দিয়েছে ন্যাটো দাবি করেছে ইরান। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান ইরানের।

ইউক্রেনের একটি বিমান বিধ্বস্ত। ছবি-সংগৃহিত
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে সেখানে ‘শান্তি ফেরাতে’ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। পুতিনের ঘোষণার পর সেখানে গোলাবর্ষণ আরও তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযানের ঘোষণা দেন। এর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ইউক্রেনের ৪০ জনের বেশি সেনা ও ১০ জনের মতো বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করে দেশটি। রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর সেনা ও বেসামরিক নাগরিকসহ দুই পক্ষের ১০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



