সিলেটে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) এর খাঁচায় ধরা পড়লো পুলিশের সোর্স ছিনতাইকারী আব্দুল হালিম ওরফে হালিম মেম্বার ও শামীম আহম্মেদ কবির (৪৮)। তাদের কাছ থেকে ছোরা, মানিব্যাগ ও ৩টি মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৯ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিলেট নগরীর দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে আব্দুল হালিম দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিকেল ৪টায় নগরের সোবহানীঘাট ফেমাস ফার্মেসির সামনে থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
আটককৃতরা হলো সুনামগঞ্জের তাহিরপুর জেলার ইসলামপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল হালিম ওরফে হালিম মেম্বার (৩৮) ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ হাসনাবাদ গ্রামের মৃত মোছদ্দর আলীর ছেলে শামীম আহমদ কবীর (৪৮)। তারা উভয়ে নগরের লালটিলা কুমার পাড়ায় বসবাস করে আসছে বলে র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামিউল আলম বলেন, আটক হালিমের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫টি ও দু’টি চুরির মামলা রয়েছে।একইভাবে কবীরের বিরুদ্ধেও দস্যুতা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আটকের আগে তারা সিএনজি অটোরিকশায় ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালাচ্ছিল। এভাবে বেশ কিছুদিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই করে আসছিল তারা। আটকের পর তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে অংশ নেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমানসহ র্যাবের একটি বিশেষ টিম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১/১১ পরবর্তী সময়ে ছিনতাইরোধে কোতোয়ালি থানার ওসির তত্বাবদানে গঠিত হয় পুলিশের চৌকুশ সদস্যদের নিয়ে টাইগার টিম গঠন করা হয়। সে সময়ে সিলেটে ছিনতাইকারীদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল পুলিশ। সেই টাইগার ফোর্সের সোর্স হয়ে কাজ করে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী আব্দুল হালিম ওরফে হালিম মেম্বার। বিগত দিনে কোতোয়ালি থানায় গঠিত পুলিশের বিশেষ টিম টাইগার ফোর্সের সঙ্গেও সোর্স হিসেবে আব্দুল হালিমসহ ছিনতাইকারীদের একটি চক্রকে কাজ করতে দেখা গেছে। সে সময় কোতোয়ালি থানায় কর্মরত টাইগার ফোর্সের এএসআই হায়দারের বিশ্বস্থ সোর্স হিসেবে কাজ করেছে হালিমসহ একটি চক্র। ওই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে ছিনতাই সংগঠিত করার অভিযোগ ছিল। ছিনতাই প্রতিরোধের বদলে সে সময় ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ছিল নগরজুড়ে।

তাছাড়া নিরীহ লোকজনকে ফাঁসিয়ে অর্থকড়ি আদায় ছাড়াও প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে টাইগার টিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। হয়রানীর অভিযোগ সাদা পোষাকের টাইগার টিম বিলীন করা হয়। বিতর্কিত এএসআই হায়দারও সিলেট থেকে বদলী হয়ে যান। সেই দলের তার রেখে যাওয়া লালিত সোর্স হালিম এখনো পেশায় ছিনতাইকারী।
আবদুল হালিম ও তার চক্রের সদস্যরা বার বার গ্রেফতার হলেও কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। আগে সড়কে রিকশা যাত্রীদের আটকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটালেও হালিমসহ চক্রের সদস্যরা এখন সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী বেসে ছিনতাই করে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ বলেন, আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করে মামলা দিয়েছে র্যাব। তবে হালিম পুলিশের সোর্স হিসেবে থেকে ছিনতাই করে গেছে, তা জানতাম না।
তিনি বলেন, তারা এখন সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রীবেসে ছিনতাই করে। সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমায় সিএনজি অটোরিকশার এক যাত্রীর টাকা ছিনতাই হয়। আটকের পর ওই ব্যক্তি তাদের সনাক্ত করেছেন। ভোক্তভোগী ওই ব্যক্তিও দক্ষিণ সুরমা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



