শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকায় গিয়ে সার্বিক বিষয় মহামান্য আচার্যকে অবগত করবো। তিনি উপাচার্যের শাবিপ্রবির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন, ভিসি থাকবেন কি না?
বৈঠকের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল ইসলাম ও ট্রেজারার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জনান।
রেজিস্ট্রার ইশফাকুল ইসলাম শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, সংক্ষিপ্ত বৈঠকে উপাচার্য (ভিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় যেনো স্বাভাবিক ভাবে চলে, এ ধরণের ঘটনার যেনো কোনো পূণরাবৃত্তি না ঘটে। সামনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস যেনো স্বমহিমায় পালন হয়, আয়োজনে যেন কোনো ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন শাবিপ্রবির ট্রেজারার আনোয়ারুল ইসলাম। ছবি-নতুন সিলেট
মন্ত্রীর বরাত দিয়ে ট্রেজারার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, উনি চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক উন্নতি করেছেন। ভাল চালিয়েছেন। যে কারণে পরবর্তী চার বছরের জন্য মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা ঘটে গেছে। এ ঘটনায় ছাত্র-শিক্ষক অনেকে আহত হয়েছেন। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঘটনা ঘটেছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব আপনার (ভিসি) ওপর বর্তায়। সে বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। অতীত ভুলে গিয়ে নতুনভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য কাজ করে যেতে নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
তবে স্বল্প সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব হয়ে ওঠেনি জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালনের জন্য জৌলুস বজায় থাকে, সম্মিলিতভাবে সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
এরআগে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন পুলিশি পাহারায় এসে বৈঠকে যোগ দেন। স্বল্প সময়ের বৈঠক শেষে পরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বেরিয়ে যান।
এরআগে সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট সার্কিট হাউজ থেকে বেরিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী। এরপর সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রশাসনিক ভবনে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌছে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ দীর্ঘক্ষণ তোমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তারা বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন। যেগুলোর অনেকটা আগেই পূরণ হয়ে গেছে। আর ভিসির পদত্যাগের যে সিদ্ধান্ত সেটা উপাচার্য দেবেন। আমরা তাকে গিয়ে সার্বিক বিষয়ে অবগত করবো।

শিক্ষামন্ত্রীর ও শিক্ষকদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছেন শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল ইসলাম। ছবি-নতুন সিলেট
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমাদের আন্দোলন অহিংস আন্দোলন ছিল। তোমরা আহ্বান করেছিলে তখন করোনা পরিস্থিতির কারণে আসতে পারিনি। তোমার আমার সন্তান, তোমাদের আহ্বানে আমি এখানে এসেছি। তোমাদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ করা হবে বলেও জানান দীপু মনি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সবকিছু পূরণ করা হবে। সেক্ষেত্রে তোমাদের সহযোগিতা কামনা করছি। তবে এখানে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ যেনো বজায় থাকে, এখানে যেনো কোনো ধরণের অসৌজন্যতা না হয়, সুন্দর পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেটি আমাদের সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা করবো।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আমরা আশাকরি অতীতে যতকিছুই ঘটুক না কেনো, আমরা সামনের দিকে এগুতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেশে বিদেশে রয়েছে, সেটিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সব চেষ্টা আমরা করে যাবো। একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো বিষয় সামনে এসেছে, সরকার তার সামর্থ অনুযায়ী সবগুলোকে সমাধানের চেষ্টা করবো। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি আগের মতো ফিরে আসবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব উদ্দিন প্রামাণিক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস আহমদ তুহিন।
এর আগে বিকেল ৩টা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
ওই বৈঠক শেষে গণমাধ্যমেকে দীপু মনি বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জেনেছি। তাদের অনেকগুলো দাবি ছিল। যেগুলো ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে।
উপাচার্য অপসারণের ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যকে অবহিত করবো। আচার্য যেহেতু একজন উপাচার্যকে নিয়োগ দেন কিংবা অপসারণ করেন সেহেতু আমরা বিষয়টি আচার্যকে অবহিত করবো। সে বিষয় তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



