করোনাকালে জীবন-জীবিকাকে প্রধান্য দিয়েই সরকার বাজেট প্রণয়ন করেছে বলে মনে করছেন সিলেটের ব্যবসায়ীসহ বিশিষ্টজনরা। অনেকে বাজেটকে জনবান্ধব বললেও কেউ কেউ এটাকে চমক দেখানোর বাজেট আখ্যা দিয়ে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তবে সরকার বিশালাকারের এই বাজেটকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো ও পর্যটনখাত এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, ‘এটা ব্যবসা-বাণিজ্য বান্ধব বাজেট। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী-অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান করোনার প্রেক্ষাপটে বাজেটে জীবন-জীবিকার উপর সবেচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই করোনাকাল আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। করোনাকালে আমরা পেছনে চলে গিয়েছিলাম। পেছন থেকে কিভাবে আমরা উজ্জীবিত হতে পারি। নতুন করে শুরু করতে পারি, এ বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রী খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বিধায় কর অবকাশ করেছেন। বিশেষ করে করোনাকালে কর্মসংস্থানের ঘাটতি পূরণে জনবান্ধব বাজেট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পর্যটন খাত পৃথিবীর বড় একটি শিল্প। এই খাতে প্রধানমন্ত্রী ভালই বরাদ্দ দিয়েছেন। অবশ্য আরো বেশি বরাদ্দ দিলে সম্ভাবনাময় পর্যটনখাতে শুধু দেশি নয়, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হতো।পর্যটনের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে দরকার। আর অবকাঠামো খাত পর্যটনকে তরান্বিত করে। এই খানে বরাদ্দের কারণে পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে। যার মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করবে। তাছাড়া স্বাস্থ্যখাতে ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও কৃষিখাতে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ দু’টি খাতে নজরে এনেই বরাদ্দে গুরুত্ব দিয়ে জনবান্ধব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখেন ২০৪১ একটি উন্নত রাষ্ট্রের। সেই স্বপ্নের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া প্রয়াস এই বাজেটে দেখতে পাচ্ছি।
এছাড়াও শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১৯ শতাংশ ৭ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ায় দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন সাধিত হবে বলে আশাবাদী তিনি।

এফবিসিআইসির পরিচালক ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, দেশের একটি বিশাল খাত পর্যটন। এই খাতে দেওয়া বরাদ্দ করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্থ পর্যটনকে টেনে তুলতে চেষ্টা। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বরাদ্দ জনকল্যাণ বয়ে আনবে। তবে অন্য ও বাসস্থান হিসেবে এসি-নন বারের পার্থক্যটা গোচাতে ৫ শতাংশ করারোপ করা প্রয়োজন। অন্য-বাসস্থানের পার্থক্য না রেখে ৫ শতাংশ করা হলে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেন। তাতে পর্যটন উপকৃত হবে। আর পর্যটক বাড়লে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশালাকারের এই বাজেট উচ্চাভিলাসী নয়। এটি সময়োপযোগী। এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটানো যায়। যেমন ধরেন, একজন ঠিকাদারকে ৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প দিলেন। সেই সঙ্গে আরো ৫শ’ কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হলো। তাহলে মেয়াদান্তে কর্ম সম্পাদক সম্ভব হবে না। এক ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্প না দেওয়া হয়। অথবা জেলার ভেতরের কাজ জেলার মানুষকে দেওয়া হয়। তাতে অবকাঠামো বলেন, আর যাই বলেন, মেয়াদান্তে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড ইউনিটের সাবেক কমাণ্ডার ভবতোষ বর্মণ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর করোনাকালে বিশাল বাজেটে আশাব্যঞ্জক।তবে বেকারত্ব গোচাতে পরিকল্পনা জোরদার করা প্রয়োজন। কেননা, অনেক মানুষ পেশাহীন হচ্ছে। এটাকে রোধকল্পে কর্মসংস্থানে বিশেষ ব্যবস্থা নিলে জনকল্যাণমূলক হবে।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২০ হাজার টাকা করায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলতেন মুক্তিযোদ্ধারা যেনো কারো কাছে হাত পাততে না হয়। এতে বুঝা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সুনজর রয়েছে। বিশালাকারের এই বাজেটে আমরা অত্যান্ত প্রীত। কারণ প্রধানমন্ত্রী সাহসী পদক্ষেপের ঘাটতি নেই। কেবল বেকারত্বের বিষয়টি প্রাধান্য পেলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। তাছাড়া বহি:র্বিশ্বে বাংলাদেশের অনেক সুনাম বেড়েছে। যারা প্রবাসী আছেন, তারাও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করতে পারছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) সিলেটের সমন্বয়ক ফারুক মাহমুদ বলেন, বিশালাকারের বাজেট দিয়েছে সরকার। এটা চমক দেকানোর বাজেট। এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন। করোনাকালে এই বিশালাকারের বাজেটে আয়ের খাত যেভাবে দেখা হচ্ছে, সেটা সম্ভব না। মূলত; একটা বাজেট পেশ করতে হয়, সরকার সেটাই করেছে। কিন্তু বাস্তবায়ন করে দেখানো কঠিন।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স ও মেট্টোপলিটন চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতারা ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য একটি ব্যবসা বান্ধব ও জনকল্যাণমুখী বাজেট আখ্যা দিয়ে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট অর্থাৎ আগামী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ বাজেটে মোট আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
মোট উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আর মোট অনুন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এরআগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



