করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সবচেয়ে বেশী-তাহমিন আহমদ
দি ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর উদ্যোগে কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টস-২০২২ এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) এফবিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টস এর সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ সভাপতি জনাব মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
সভায় সারা দেশের চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতিগণদের সাথে অংশগ্রহণ সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক তাহমিন আহমদ।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সকল জেলার ব্যবসায়ীরা অর্থাৎ সকল চেম্বার অব কমার্স একত্রিত থাকলে এফবিসিসিআই আরো শক্তিশালী হবে। ব্যবসায়ীদের যেকোন দাবী-দাওয়া আদায়ে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্ট্স-২০২২ এর সভায় বাংলাদেশের সকল জেলার চেম্বার সভাপতিগণ অংশগ্রহণ করায় তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি ব্যবসায়ীরা ভ্যাট, ট্যাক্স সংক্রান্ত যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা লিখিতভাবে এফবিসিসিআইতে প্রেরণের অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এফবিসিসিআই সকল বিজনেস সেক্টরকে সমান সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে চায়, যাতে এর মধ্য হতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সেক্টরগুলো বিকাশ লাভ করতে পারে।
তিনি কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে প্রণোদনা পান, সেজন্য জেলা চেম্বারগুলোকে ব্যাংক সমূহের সাথে আলোচনা ও সুপারিশের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক তাহমিন আহমদ বলেন, করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সবচেয়ে বেশী। এতদসত্তেও সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্স আদায়কারী বিভাগগুলো থেকে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুন মাসে রাজস্ব আহরণের বিবরণীতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুন ২০২০ পর্যন্ত অর্থাৎ করোনাকালীন সময়ে রাজস্ব আহরণের সমন্বিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং গত ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থাৎ করোনার সবচেয়ে দূর্যোগময় মূহুর্তে জুলাই-২০২০ মাস পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতএব এ থেকে বুঝা যায় যে, ব্যবসায়ীরা করোনা মহামারীকালীন কঠিন সময়েও দেশের অর্থনীতিতে কি পরিমান ভূমিকা রেখেছেন।

এমতাবস্থায় তিনি ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সকল ব্যবসায়ীদের আয়কর ও ভ্যাট প্রদানের নথিগুলোকে ফাইনাল সেটেলম্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। এতে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে এবং ব্যবসায়ীক কার্যক্রম পরিচালনায় এটি সহায়ক হবে।
এছাড়াও তিনি নিরবিচ্ছিন্ন কয়লা আমদানী অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ব্যাতিরেকে এলসি লিমিট ১০,০০০ মার্কিন ডলার হতে ৪০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি করার দাবি জানান।
সভায় বক্তাগণ এফবিসিসিআই এর সভাপতিকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদান, শিল্প খাতের বিকাশের লক্ষ্যে শিল্পোদ্যোক্তাগণকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ীদের উপর ভ্যাট, ট্যাক্স এর বোঝা না বাড়ানো সহ বিভিন্ন দাবী দাওয়া তুলে ধরেন।
সভায় এফবিসিসিআই এর নেতৃবৃন্দ, সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি মোঃ আতিক হোসেন এবং দেশের সকল জেলার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



