উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে এবার গণঅনশনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের পক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এ ঘোষণা দেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসির সরকার। রাত ৮টা থেকে গণানশন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের ২৩ জন শিক্ষার্থী অনশনের ৭৫ ঘন্টা অতিবাহিত করলেও ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ না করে স্বপদে বহাল থেকেছেন। তাই আমরা শিক্ষার্থিীরা সংকল্প নিয়েছি ভিসি পদত্যাগ পত্র না দেখা পর্যন্ত গণঅনশন চালিয়ে যাবো।
শিক্ষার্থী ইয়াসির সরকার বলেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন বিনা উস্কানিতে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ দিয়ে লাঠিচার্জ করান। শিক্ষার্থীদের উপর রাবার বুলেন ও শব্দ বোমা নিক্ষেপ করান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতরা যখন হাসপাতালে লাইন ধরছে, তখন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় বানোয়াট মনগড়া বর্ণনা দেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তিনি শিক্ষার্থীদের দায়ি করেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে একে বারে শুরু থেকেই কোনো সন্দেহ নেই যে, ভিসি মিথ্যুক, নির্লজ্জ ও অযোগ্য ব্যক্তি।

এরপর শাবি শিক্ষার্থীরা ফরিদ উদ্দিন আহমদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পদত্যাগের আন্দোলনে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা অনশনের ঘোষনা দেয় এবং ২৩ জন শিক্ষার্থী ৭৫ ঘন্টার বেশি সময় অনশনে থাকলেও এখন পর্যন্ত এই উপাচার্য পদত্যাগ করেননি।
এরইমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী সমস্যা নিরসনে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে শিক্ষার্থীরা সম্মত হলেও অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেটে এসে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ অবস্থা স্বচক্ষে দেখে যাওয়ার অনুরোধ করে। নয়তো, তাদের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। তা স্বত্বেও শাবি শিক্ষার্থীদের ২১ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানোর পরও এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
ইয়াসির সরকার আরো বলেন, ৭৫ ঘন্টা টানা অনশন করে শিক্ষার্থীরা যখন মৃত্যু শয্যায়, তখনো ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নির্বিকার এবঙ ভিসি স্বপদ থেকে পদত্যাগ করেননি। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। শাবিপ্রবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীরা সহযোদ্ধাদের মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে দেখে গণঅনশনে বসার সংকল্প নিয়েছে। তাই সময়ক্ষেপন না করে ভিসির পদত্যাগ করা, নয়তো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ভার ফরিদ উদ্দিনকেই নিতে হবে।
ভিসির পদত্যাগপত্র স্বচক্ষে না দেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলবে। শর্ত মেনেই আমরা গণঅনশনে নামবো। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সীটে স্বাক্ষর করে গণঅনশনে বসতে পারবে।
এরইমধ্যে ৩ শিক্ষার্থী গণঅনশনে নাম প্রস্তাব করেছেন। তারা হলেন-ইফতেখার আল মাহমুদ, সামিউল এহসান সাফিন এবং সামিরা ফারজানা। রাত ৮টা থেকে তারা অনশনে অংশ নিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়াসির সরকার বলেন, অনশনে করোনা ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অংশ নেওয়া হবে। এছাড়া করোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ব্যতিত বহিরাগতদের না আসার অনুরোধ জানান।
এই অনশন কার্যক্রমে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এই দাবি এখন ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাই বাইরের লোকজনকে ক্যাম্পাসে না এসে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



