পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ৩শ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা (নং-৫(০১)’২২) হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। তবে মামলায় কোনো শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দিনগত রাতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রীরা। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।
এরপর রোববারে (১৬ জানুয়ারি) ভিসিকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ এর নেতৃত্বে পুলিশ ও এসএমপির ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধারে পুলিশ শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এজাহারে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীরা শুধু ইটপাটকেলই করেনি, আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিও ছুঁড়েছিল।’
সেদিন বিকাল সোয়া ৩টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তারা ড. এমএ ওয়াজদ আলী আইসিটি ভবনে তালা দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এদিন বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ ওই ভবনে ঢুকে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষর্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন।
এমন সময় ভিসিকে ভবন থেকে বের করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা কোনো কথা কর্ণপাত না করে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আন্দোলনরত ২/৩শ’ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা করে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারি আগ্নোয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুঁড়ে। এ ছাড়াও পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা সেদিন সোয়া ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা অবধি ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থেম থেমে পুলিশের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জানমাল, আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ১১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২০ রাউন্ড সিসা কার্তুজসহ মোট ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে।
এ ছাড়া সিআরটি ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভিসিকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ইটপাটকেল ও ককটেলের আঘাতে ৬ কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা ওসমানীতে চিকিৎসা রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



