ঘন ভূমিকম্পে আতঙ্কে সিলেট নগরের বাসিন্দারা।ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে ভবন হেলে পড়ার ঘটনার পর এবার পুকুরের গার্ড ওয়াল ধসে ঝুঁকিতে বহুতল ভবন।
সোমবার (৩১ মে) বিকাল ৩টার দিকে নগরের ৪নং ওয়ার্ডের জুমদারী মুনিপুরী পাড়ায় পুকুরের গার্ডওয়ালটি ধসে পড়ে। ওই এলাকায় আরেকটি বহুতল ভবনও ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ভূমিকম্পের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া সিটি করপোরেশনের মালিকানা পুকুরটির গার্ডওয়াল ধসে পানিতে পড়ে যায়। এতে পুকুরপাড়ের লাগোয়া তিনতলা একটি ভবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। যেহেতু সিলেটে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে, সে কারণে ভবনের ৬টি ফ্লাটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গার্ডওয়াল ধসে পড়ার পর নগর কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাদের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। স্থানীয় কাউন্সিলরকে দিয়ে ফোন দেওয়ালেও ২ ঘন্টা পর সোমবার বিকাল ৫টার দিকে প্রকৌশলীদের চার জনের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। এরপরও নগর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যক্রম হাতে নেয়নি। পুকুরের পাড় ভেঙে পড়া ঠেকাতে বাসার মালিক নিজ উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে আড় দিয়েছেন।
কাউন্সিলর রেজাউল আরো বলেন, আমি বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থেকে ফোন দিলেও সিটি করপোরেশনের লোকজন আসতে অনেক দেরি করেন। যেকোনো দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাদের আরো বেশি সচেতন থাকার প্রয়োজন মনে করেন তিনি। কেননা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পেয়ে তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় ১০ বছর আগে গার্ডওয়ালটি করেছিল সিসিক। এরনীচ থেকে ধীরে ধীরে মাটিও সরে গেছে। শনিবার দফায় দফায় ভূমিকম্পের কারণে ওয়ালটি দেবে গিয়ে ধসে পড়েছে। নগরে বিভিন্ন ড্রেনে রিটেইনিং ওয়ালের কাজ চললেও পুকুরের গার্ড ওয়ালটি সংস্কারে আরো আগে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। মূলত; সিসিকের মনিটরিংয়ের অভাবে এমনটি হয়েছে। এ জন্য নগর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনাকে দায়ি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে সোমবার বিকেলে সিসিকের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা প্রকৌশলী দলের মতে, গত দুদিনের ভূমিকম্পের ফলে নাকি সোমবারের প্রবল বর্ষণের কারণে গার্ড ওয়ালটি ধসে পড়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আবারো ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি টিম রয়েছে। তবে ওই টিমের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে কোনো জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার কথা থাকলেও গত শনিবার থেকে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের মাসিক কোনো সভাও হয় না। ভলেন্টিয়ার দল গড়ে তোলার কথা থাকলেও তা কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। এ খানে বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এমনকি বিভিন্ন এলাকা সামাজিক সংগঠন কিংবা বাজার, ব্যবসায়ী কমিটি থাকলেও তাদের কাজে লাগানোর কোনো উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



