সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আরমান হোসেন (১৭) নামে এক কিশোর খুন হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তার তলপেটে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ওয়াকওয়েতে ফেলে রেখে যায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে নগরের জল্লারপার ছড়ার ওপর নির্মিত ওয়াকওয়েতে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।
নিহত কিশোর আরমান হোসেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তার বাবা নগরের ফুটপাতে ছিন্নমূল ব্যবসায়ী। সে সুবাদে তারা নগরের জল্লারপার জামতলায় একটি কলোনীতে স্বপরিবারে ভাড়া থাকতেন।
খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিপলু আহমদ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ আলী মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পূর্ব বিরোধ থেকে তর্কাতর্কির জের ধরে আরমানের তলপেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিপলু আহমদ (৪২) নামের নগরের কালিঘাটের এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।নিহতের পরিবারের অভিযোগ শিপলু-ই ছিন্নমূল কিশোরদের দিয়ে আমরানকে খুন করিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধ কিংবা প্রেম ঘটিত কারণে থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দিচ্ছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের মামাতো ভাই নগরের ছিন্নমূল ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি নগরে রাস্তার পাশে ভাপা পিঠার ব্যবসা করি। রাত ১টার পর বাসায় ফিরে জানতে পারি, ওয়াকওয়েতে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ফুফুকে ফোন করতেই বলেন, আরমানকে কারা মেরে ফেলেছে।
তিনি বলেন, তার ফুফাতো ভাই আরমান কাজিরবাজার মাদরাসায় হাফিজি পড়তো। করোনার কারণে আর মাদরাসায় যায়নি। এরপর জল্লারপাড় রসময় উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনীতে ভর্তি করা হলেও পড়ালেখায় ধ্যান না থাকায় স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যান। তিনি আরও জানতে পেরেছেন, লালনসহ কিশোরগ্যাংয়ের ৫/৬ জন সদস্য তার উপর আক্রমন করে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তর্কাতর্কির জেরে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওয়াক ওয়ের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ওখানে পুলিশী টহল থাকেনা। ফলে রাতের আধারে জল্লারপার ওয়াকওয়েতে কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে। এসব কিশোর গ্যাংকে পোষে থাকেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের একাধিক গ্রুপ। রাতে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির জের ধরেই ওই কিশোরকে খুন করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরমান হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



