সিলেটে সিরিজ ভূমিকম্পের পর নড়েচড়ে বসেছে নগর কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার (৩০ মে) দুপুর থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযানকালে সিটি সুপার মার্কেট মধুবন মার্কেট, রাজা ম্যানশন, সমবায় ভবন, সুরমা মার্কেট ও পনিটুলায় পাঠানটুলা এলাকায় হেলে পড়া ভবন পরিদর্শনকালে মার্কেট ও ভবন মালিকদের এমন নির্দেশনা দেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এসএমপি পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট বন্ধ রাখতে আরো সপ্তাহদিন সময় চান। এসময় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মার্কেট কিংবা দোকানপাঠ এক মিনিট বন্ধ থাকুক, তা আমিও চাই না। কিন্তু সিরিজ ভূমিকম্প হওয়াতে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রেক্ষিতে বড় ধরণের ভূমিকম্প হতে পারে। এ জন্য ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে নির্দেশনা মারা প্রয়োজন। অন্তত আগে নিজে বাঁচুন এরপর ব্যবসার চিন্তা করুন।
মেয়র আরিফুল হকের ব্যক্তিগত সহকারী সুহেল আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নগর ভবন থেকে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করা হয়েছে। রোববার কয়েকটি মার্কেটে যাওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশনা সবগুলোর ক্ষেত্রে আজ থেকেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের সিটি সুপার, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় ভবন, জিন্দাবাজারে মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, সুরমা মার্কেট আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত। ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবনের কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিন বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মেয়রের নির্দেশনার পর এই বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে বৈঠকে বসেছেন মার্কেটগুলোর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, মার্কের্টে অভিযান শেষে মেয়র আরিফুল হকের নেতৃত্বে প্রকৌশলী দল ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি নগরীর পাঠানটুলা পনিটুলা ভূমিকম্পে হেলে পড়া ৬ তলা ভবন দু’টি পরিদর্শনে যান। ভবন একটি অপরটির দিকে অন্তত দুই ফুট করে হেলে আছে। বাসাগুলো পরিদর্শন শেষে ভবনের বাসিন্দাদেরও আগামি ১০ দিনের জন্য অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভবনগুলো হচ্ছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশের কালেক্টরেট ভবন-৩, জেলরোডস্থ সমবায় ব্যাংক ভবন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয় ভবন, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানশন, লন্ডন ম্যানশন, দরগাগেইটের হোটেল আজমীর, বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, টিলাগড় কালাশীলের মান্নান ভিউ, শেখঘাট শুভেচ্ছা-২২৬ নম্বর ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ বাসা, চৌকিদেখির ৫১/৩ সরকার ভবন, জিন্দাবাজারের রাজাম্যানশন, পুরানলেনের ৪/এ কিবরিয়া লজ, খারপাড়ার মিতালী-৭৪, মির্জাজাঙ্গাল মেঘনা এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাগবাড়ির একতা ৩৭৭/৭ ওয়ারিছ মঞ্জিল, একই এলাকার একতা ৩৭৭/৮ হোসেইন মঞ্জিল, একতা-৩৭৭/৯ শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, বনকলাপাড়া নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর দক্ষিণ পাড়ের পৌরবিপণী মার্কেট ও ধোপাদিঘীরপাড়ের পৌর শপিং সেন্টার।
ভুমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, শনিবার সিলেটে সিরিজ ভূমিকম্প হয়। এদিন সকাল ১০ টা ৩৬ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পের রিখটার স্কেল ছিল ৩ দশমিক শূণ্য। দ্বিতীয় ঝাঁকুনি ১০ টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রা ছিল। ১১টা ২৯ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ২ দশমিক ৮ মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এছাড়া বেলা ২টায় ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটিরই উৎপত্তিস্থল সিলেটের আশপাশে। ঢাকা থেকে উত্তর পূর্বে এর অবস্থান। এছাড়া রোববার ভোরেও মৃদু ভূমিকম্প হয়। এটারও উৎপত্তিস্থল সিলেটে।
বিশেষজ্ঞতের মতে, মূলত; ডাউকি ফল্টের কারণে সিলেট ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। যে কারণে জৈন্তাপুর সীমান্তের দিকেই এর উৎপত্তিস্থল! যার পরিপ্রেক্ষিতে বড় ভূমিকক্ষের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অভিযানে নেমেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



