প্রার্থীতা বাতিলে মানহানিকর বক্তব্য দু:খজনক-আব্দুল জব্বার জলিল
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ২০২২-২৩ মেয়াদের পরিচালক, প্রেসিডিয়াম নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়েছে।আইনগত প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রেসিডিয়াম নির্বাচনে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এ কারণে একটি পক্ষ মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করছে বলে জানিছেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল।
তিনি বলেন, আমাকে নিয়ে চরম নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। আমার সারা জীবনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে চোখের জল ফেলেন বলেন, ‘আমার জীবনের সব অর্জন ম্লান করে দেওয়া হচ্ছে।’ যা অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টদায়ক। তা আমাকে ব্যতীত করেছে।মহান আল্লাহ রাব্বল আ-লামিন এর উত্তম বিচারক।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট চেম্বার বিল্ডিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সারা জীবন সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছি। অর্জিত টাকা মানুষের সেবায় বিলিয়েছি।করোনার মহাবিপর্যকালেও সাধ্যমতো মানুষকে সহায়তা দিয়েছি। সমাজের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দরিদ্র দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করেছি। আর্ত সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।’ অথচ এই নির্বাচনে কারো হার জিতে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত লাভ নেই। এমনকি নির্বাচন পরিচালনাকালে নির্বাচনী বোর্ডের আপ্যায় ও ব্যক্তিগত খাতের খরচও নিজ পকেট থেকে ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছি আগেই।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, সিলেট চেম্বারের অতীত রেওয়াজ অনুযায়ী- যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র আগে জমা দেবেন, তাদের ব্যালট ক্রমিক নম্বরও সেভাবে প্রদত্ত হবে। এবারের নির্বাচনে উভয় প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীগণ সেভাবে ক্রমিকানুসারে তাদের ব্যালট নম্বরও প্রদান করা হয়েছে। এখানে নির্বাচন বোর্ডের কোনো হাত নেই। অথচ এই বিষয়টি নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে নির্বাচনী বোর্ডের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত দু:খজনক।

সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন বোড চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল। ছবি-নতুন সিলেট
এছাড়া ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ ও গণনায় সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি দাবি করে আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, উভয় প্যানেলের শীর্ষস্থানীয় এজেন্ট ও প্রার্থীগণ গণণা প্রত্যক্ষ করেছেন।
ওইদিন রাত ১০ টার আগেই এসোসিয়েট শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ করতে সক্ষম হলেও অর্ডিনারি শ্রেণিতে প্রার্থী বেশি হওয়ায় ভোট পৃথক ৩টি টেবিলে একসাথে ভোট গণনার বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের আপত্তির করলে গণনায় দেরি হয় এবং অর্ডিনারী শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ করতে রাত ৩টা বেজে যায়।
তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের দিনগত রাত ১২টা থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রেসিডিয়াম গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে গত ১৩ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টায় প্রেসিডিয়াম গঠনে বসে নির্বাচন বোর্ড। এ লক্ষ্যে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় নির্বাচিত পরিচালকদের নিয়ে কনফারেন্স রুমে সমবেত হন বোর্ডের সদস্যরা। উভয় প্যানেল প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে তিনজন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তবে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীগণ তাদের প্রতিপক্ষ প্যানেলের দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিখিতভাবে আপত্তি জানান।
বিষয়টি নিয়ে উভয় প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বয়োজেষ্ঠ্যরা সমঝোতার স্বার্থে সময় চাইলে, নির্বাচন বোর্ড সময় প্রদান করে। এজন্যই সভার কার্যক্রমে বিলম্বিত হয়। কিন্তু পক্ষদ্বয় সমঝোতায় উপনীত হতে ব্যর্থ হন। সে সময় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের আপত্তির প্রেক্ষিতে সংঘবিধির ১২(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শীর্ষ ৩টি পদে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেনী থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি পদে যথাক্রমে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের আব্দুর রহমান জামিল হুমায়ন আহমদ দু’জনেই অর্ডিনারী শ্রেনী থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু আইনগত জটিলতা তথা সংবিধান লংঘন হওয়ায় তাদের একজনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের অনুরোধ করে। কিন্তু তারা তাতে রাজি হননি। ফলে সাংবিধানিকভাবে দু’জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্ত না নিলে সংঘবিধি লঙ্ঘন হতো। চেম্বার নির্বাচনও আইনী জটিলতার সম্মুখীন হতো। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের পরিচালকগণ সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। আমরা আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করি এবং প্রেসিডেন্ট পদে তাহমিন আহমদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আতিক হোসেন নির্বাচিত করি।
আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, নির্বাচনী বোর্ডের সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। সেখানে তারা যথাযথ প্রতিকার পাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন। কিন্তু তারা এই আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণের আগেই নির্বাচনী বোর্ড সম্পর্কে যে অবমাননাকর বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করছেন, তা অত্যন্ত দু:খজনক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট মিছবাউর রহমান আলম ও মো. সিরাজুল ইসলাম শামীম।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



