প্রায় ৬০ ঘন্টা দুর্ভোগের পর প্রত্যাহার হলো পরিবহণ ধর্মঘট। রোববার বিকেল ৫টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে দেশব্যাপী বাস-ট্রাক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
ধর্মঘটের কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। ধর্মঘট চলাকালে সিলেটের কোথাও বিশৃঙ্খলা না ঘটলেও ভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি ছিল চরমে। আন্ত:জেলা ও আঞ্চলিক সড়কে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে গলা কাটা ভাড়া আদায় করেছে হালকা যানগুলো।
গণপরিবহণের সঙ্গে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যের বাজারেও। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরাও বাড়িয়ে দেন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রির দাম। এতে করে যাত্রীদের পাশাপাশি নাভিশ্বাস ওঠে মানুষের জীবন যাত্রায়।
সরকার ধর্মঘটকারীদের দাবি মেনে নেওয়ায় অবশেষে রোববার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে দেশের সব রুটে আগের নিয়মে বাস চলাচল করবে জানিয়ে দেওয়া হয়। এদিন বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিআরটিএ ভবনে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
তিনি জানান, সোমবার থেকে বাস ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর দেশব্যাপী চলমান বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ধর্মঘটের ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন নাগরিকরা।বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করেও অনেকে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অন্যদিকে কর্মজীবী মানুষও পড়েন বিপাকে।
ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে শুক্রবার থেকেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার, প্রাইভেটকার লাগামহীন ভাড়া আদায়ের প্রতিযোগিতায় নামে। এতে সাধারণ মানুষ পদে পদে বিড়ম্বনায় শিকার হন। সপ্তাহিক বন্ধের দিনে সিলেটে আসা পর্যটকদের অনেকেই পড়েন বিপাকে।তারা না পারছিলেন ফিরতে, না পারছিলেন পর্যটক কেন্দ্র ঘুরে দেখতে। ফলে ট্রেনে চেপে অনেকে ফের গন্তব্যে বা কর্মস্থলে ফিরে যান।
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত বুধবার রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এরপর ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে গত শুক্রবার অঘোষিতভাবে বাস, ট্রাক ও অন্য পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন মালিকেরা।
সিলেট জেলা সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম, ডিজেলের মূল্য বাড়ানোতে আমরা বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন সরকারের পক্ষ থেকে হয় গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে হবে অথবা ডিজেলের দাম কমাতে হবে। এই দাবিতে আমরা ডাকা ধর্মঘট পালন করেছিলেন তারা। সরকার দাবি মেনে নেওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে সিলেটের রাজপথে রাজ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে এসব যানবাহন। এমন নৈরাজ্যের বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপে যায়নি প্রশাসনও। এমন বাস্তবতায় বড় ধরণের ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে সিলেটের বিভিন্ন সড়কে বাস না পেয়ে নারী-শিশুদের নিয়ে নারী-শিশুদের নিয়ে সড়কে অসহায় অবস্থায় মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বের হওয়া যাত্রী সাধারণ বাস টার্মিনালে গিয়ে ভিড় করেন। পার্শ্ববর্তী গন্তব্যের যাত্রীরা পিকআপ, মোটরসাইকেল কিংবা হেঁটেই রওয়ানা হতে দেখা যায়। আবার অনেকে তিনগুন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে হালকা যানে তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। দীর্ঘসময় বাসের অপেক্ষায় থেকে অনেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউল কবির পলাশ বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের পরিবহন খাতে নতুন সংকট দেখা দেয়।জ্বালানী তেলের দাম বাড়ার কারণে সকল স্তরে প্রভাব পড়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



