দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত, চিকিৎসায় সুনাম অর্জন করা থাইল্যান্ড এবার তাদের দরজা আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দিচ্ছে। কমপক্ষে ৬০টি দেশের পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছেন, এমন পর্যটকরা দেশটি সফরে যেতে পারবেন। এর অধীনে প্রায় দেড় বছর পর আজ সোমবার থেকে থাইল্যান্ডে লাখ লাখ পর্যটকের ঢল নামবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ এমন ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে যাওয়া পর্যটককে সেখানে আর হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে না। এর ফলে আগামী বছর সেখানে কমপক্ষে এক কোটি ৫০ লাখ পর্যটক দেশটিতে যাবেন বলে পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে আয় হবে কমপক্ষে ৩০০০ কোটি ডলার। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, তা সত্ত্বেও থাইল্যান্ড এখনও বেশ কিছু বিধিনিষেধের মুখোমুখি। কারণ, সেখানকার জনগোষ্ঠীর শতকরা মাত্র ৪২ ভাগকে এ পর্যন্ত পূর্ণ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।
এখনও থাইল্যান্ডে দিনে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় ট্যুর গাইড চাইয়াগর্ন বুনিয়াপাক বলেছেন, পরিস্থিতিটা এমন যে- সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে খুবই ক্ষীণ একটি আলো দেখা যাচ্ছে। আমরা দুটি বছর ধরে কোন কাজই করতে পারিনি।
এখন পর্যন্ত তিনি বা তার অনুসারী অন্য ট্যুর গাইডরা কোনো কাস্টমার বা ট্যুর কোম্পানির তরফ থেকে আমন্ত্রণ পাননি। কারণ, সেখানে পর্যটন আগের অবস্থায় ফিরতে মোটামুটি এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে। চাইয়াগর্ন বুনিয়াপাক বলেন, আমরা জানি না সরকার মসৃণভাবে দেশের সব কিছু উন্মুক্ত করে দিচ্ছে কিনা। আমি আশা করি তারা চাইলে এটা পারে। আবার কাজ ফিরে পেলে আমরা বেঁচে যাই।
করোনা ভাইরাস মহামারি থাইল্যান্ডের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। এর আগে দেশটিতে বছর কমপক্ষে ৪ কোটি পর্যটক ঘুরতে যেতেন। গত বছর এ সংখ্যা কমে গেছে কমপক্ষে ৮০ ভাগ। ব্যাংকক এবং ফুকেট বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত আছে বৃটেন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, বেশির ভাগ ইউরোপিয়ান দেশ। ফলে সবার সঙ্গে প্রায় উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ। থাই সরকারের হিসাবে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে ২০২৩ সালের মধ্যে। তবে পর্যটন বিষয়ক বহু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এখনও চীন তার সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে। এতে থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কঠিন হবে। মহামারি শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি পর্যটক থাইল্যান্ডে যেতেন চীন থেকে। ২০১৯ সালে তাদের সংখ্যা ছিল এক কোটি ২০ লাখ।
ব্যাংককে পর্যটকদের কাছে প্রিয় খাওসান রোডে অবস্থিত একটি ছোট্ট হোস্টেল- টেলস খাওসান। এর মালিক উইওয়ান সিরিওয়াসায়েরি। সরকার পর্যটন খাতকে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নিয়ে যে পূর্বাভাষ দিয়েছে, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। খোয়াসানের পরিস্থিতি আমার মনে হয় না আগের অবস্থায় আসবে। এ নিয়ে আমি চিন্তিত। আমার ভয় হলো, আমরা পর্যটকদেরকে দেশে ঢুকতে দিচ্ছি। এ অবস্থায় যদি নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকে, তাহলে আমরা কি আবার লকডাউন দেবো? পরিস্থিতি নিয়ে আমি অতোটা আশাবাদী নই।
একই এলাকায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা করেন পীতি কুলসিরোরাত। তিনিও আশঙ্কায়। তার ভয় পর্যটক দেশে প্রবেশ করায় নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। তার ভাষায়- তখন করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য পর্যটন শিল্পকে ভিলেন হিসেবে দায়ী করা হবে। এলকোহল পানের মতো বিষয়টি বলির পাঁঠা হতে যাচ্ছে। পীতি কুলসিরোরাত আরো বলেন, দেশে এখনও বিধিনিষেধ বহাল আছে। বেশির ভাগ এলাকায় এখনও এলকোহল বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়নি। এর ফলে যেসব মানুষ ছুটি বা অবকাশ যাপনে আসবেন তাদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম নেবে। পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতা এ দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে সামনে আনতে হবে পর্যটনকে। পর্যটকরা যদি থাইল্যান্ড আসেন তারা দেখতে পাবেন এখানে অনেক কিছু নিষিদ্ধ এবং বন্ধ। তাহলে কেন তারা এখানে আসবেন? এর ফলে পর্যটকের সংখ্যা কমতে থাকবে। বিধিনিষেধের কারণে তারা বিরক্ত হতে শুরু করবেন।
থাইল্যান্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট ফুকেট দ্বীপ। করোনা মহামারি সেখানকার অর্থনীতিকে অচল করে দিয়েছে। সেখানকার কমালা সৈকতে একটি সূর্য্য স্নানের লাউঞ্জ এবং জুস বার-এর মালিক দিত্ব। তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালে দিনে তাদের আয় হতো ১৫০ ডলার পর্যন্ত। দিত্ব বলেন, করোনার কারণে আমাদের সঞ্চয় শেষ করে দিয়েছি। এখন সবজি চাষ করি। মাছ ধরি বেঁচে থাকার জন্য। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর তাদের জুস বার আবার খুলে দেয়া হয়েছে। এখন দিনে সেখান থেকে আয় হচ্ছে ৩০ ডলার পর্যন্ত। দিত্বের ভাষায়, আমাদের সামনে যেসব টেবিল, চেয়ার দেয়া আছে, তা আবার আগের মতো ভরে উঠবে বলে মনে হয় না।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



