সিলেট সিটি ক্লিনিক:
সিলেট নগরের সিটি ক্লিনিকে যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর রাবেয়া বেগম (২৩) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত এনেসথেসিয়া ডোজসহ ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। প্রতিকার চেয়ে তারা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি করেছেন।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরের পুরাতন মেডিক্যাল সংলগ্ন সিটি পলি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত রাবেয়া বেগম নগরের হাওয়াপাড়া দিশারি আবাসিক এলাকার ৮০ নং বাসার তমাল আহমদের স্ত্রী।
রোগির স্বজনরা জানান, বাসায় খাওয়া দাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাবেয়া বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠায় ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সাড়ে ৭টার দিকে কোনো ধরণের টেস্ট ছাড়াই রোগির অস্ত্রোপচার করেন নর্থইস্ট মেডিক্যাল কলেজের গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. নাহিদ ইলোরা। এরপর রোগিকে পোস্টঅপারেটিভ রুমে রেখে ওই নারী চিকিৎসক বাসায় চলে যান। পরে দুই নবজাতককে দুগ্ধ পান করাতে নিয়ে গেলে রাবেয়া বেগমের জিহ্বা বের করা দেখতে পান।
জিহ্বা বের হওয়ার কারণ কর্তব্যরত নার্সের কাছে স্বজনরা জানতে চাইলে বলা হয়, রোগি ঘুমাচ্ছেন।রাত ১১টার দিকে ডা. নাহিদা ইলোরা প্রসূতির স্বামীকে ডেকে এনে রোগির মৃত্যুর খবর দেন। এ ঘবর শুনে রাবেয়া বেগমের আত্মীয় স্বজনের মাথায় যেনো আসমান ভেঙে পড়ে। কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলে। উত্তেজিত স্বজনরা রোগিকে ভুল চিকিৎসায় মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেন। তাদের অভিযোগ, প্রসূতির গর্ভে যমজ সন্তান ছিল বলে চিকিৎসকরাও আগে থেকে জানতেন না। তবে সন্তান দু’টি সুস্থ অবস্থায় আছে।

এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেন। রাত ১২টার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল জাবেদ আহমদ, উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ সহ আরো অনেকে।
এসময় কারণ জানতে চাইলে সিটি পলি ক্লিনিকের পরিচালক অধ্যাপক ডা হাফিজ আহমদ বলেন, ‘প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি এসেছি। কনসার্ন চিকিৎসক সবকিছু বলতে পারবেন।
অস্ত্রোপচারকারী গাইনি চিকিৎসক নাহিদ ইলোরা ঘটনাটি দু:খজনক মন্তব্য করে বলেন, ‘অপারেটিভ নেওয়ার সময়ও রোগি ভাল ছিলেন, কথাও বলেছেন। অবস্থা ভাল দেখে বাসায় চলে যাই। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফোন করে বলেন, রোগি নড়াচড়া করছে না, হয়তো মারা গেছেন। হাসপাতালে আসার পর তিনি রোগিকে পর্যবেক্ষণ করে মারা গেছেন দেখে হতভম্ব হয়ে যান। মারা যাবার কারণ অনুসন্ধান করেন তিনি।সাধারণত প্রসূতির মৃত্যু হয় রক্তক্ষরণ হলে।আর ভাত খাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করলেতো রোগির বমি হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে চাই, রোগির মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনদের জানানো হয়েছি কি-না? তারা না জানানো তাৎক্ষনিক রোগির স্বামীকে ডেকে এনে প্রসূতির মৃত্যুর খবর দেই। এতে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।’ কি কারণে রোগির মৃত্যু হয়েছে, ময়না তদন্ত করলে বুঝা যাবো। হয়তো প্রসূতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।’
অস্ত্রোপচারকালে ক্লিনিকে এনেসথেসিয়া চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন নগরের পার্ক ভিউ মেডিক্যাল কলেজের এনেসথেসিয়া প্রধান ডা. সাব্যসাচি। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তীতেও রোগি ভাল ছিলেন। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলি- আপনার একটি ছেলে ও মেয়ে সন্তান হয়েছে। এরপর রাত ১০টার দিকে জানানো হয় রোগি মারা গেছেন। তবে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে, এ ধরণের কোনো কারণ ছিল না।হয়তো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে এনেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যু হয়নি। কারণ জানা যাবে ময়না তদন্ত করলে।
রোগির স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচার পূর্বে কোনো প্রকার ডায়গানসিস করা হয়নি। মাত্র ৮ মিনিটে কিভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়ে যায়-প্রশ্ন রাখেন তারা। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, অন্য রোগির চেয়ে ওই প্রসূতির খুব সহজে অস্ত্রোপচার করতে পেরেছেন তারা।এনেসথেসিয়া অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্বজনরা দাবি তুলে বলেন, তাদের রোগিকে হত্যা করা হয়েছে, এর যথাযথ বিচার দাবি করেন।
রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ নতুন সিলেটকে বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্বজনরা উত্তেজিত রয়েছেন। তাদের শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় রোগির স্বজনরা অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



