১৯ মাসের অধিক সময় পর খুলেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। হলে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে।ফুল, কেক, চকলেট, হলের নাম ও লোগো সম্বলিত মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নেয় হলগুলো।
এসময় শরীরের তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি অন্তত এক ডোজ টিকার প্রমাণপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ আইডি কার্ড ও আবাসিক হলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে তবেই হলে উঠার অনুমতি পান শিক্ষার্থীরা।।এজন্য হলগুলোর গেটে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসেন হল প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোমবার শুধু মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা হলে উঠার সুযোগ পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হলে উঠার সুযোগ পাচ্ছে এবং ২৭ অক্টোবর ৩য় বর্ষ, ২৮ অক্টোবর ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন।
সোমবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। এর আগে সকাল ১০টায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার ‘হলে প্রত্যাবর্তন’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
এসময় উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাসে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। সামনে আরো নতুন নতুন হল হবে, এগুলো সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করে তৈরি করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের এক ডোজ টিকা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করেছি। তবুও কোন শিক্ষার্থী বাদ পড়লে তাদের দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে আসবো। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে হলে বৈধতা থাকতে হবে। বৈধতা ছাড়া কোন শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারবেন না।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরছে। আমরা করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য সকলকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে চেষ্টা করছি। এজন্য ক্যাম্পাসেই টিকা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম শৃঙ্খলা অবশ্যই সকলকে মেনে চলতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া হলে না থাকতে শিক্ষার্থীদেরকে আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর ড. মো. আলমগীর কবীর, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম।
এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খান, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু সাইদ আরেফিন খান নোবেল, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টসহ বিভিন্ন হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, আবাসিক শিক্ষার্থীবৃন্দ ও বিভিন্ন হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে প্রতিটি হলের সামনে সকাল ১০টার আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যায়। সকাল থেকেই ব্যাগে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীরা রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন উপায়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে দেখা যায়।সকালে আবাসিক হলগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা লাইন ধরে হলে ঢুকছেন। ফটকের সামনে হল প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করে হলে তুলছেন শিক্ষার্থীদের।
ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে হলগুলোর সংস্কারকাজ। প্রতিটি হলের সামনে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। এছাড়াও হলের দেয়ালগুলোতে চুনকাম ছাড়াও শেষ হয়েছে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ।শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় আবাসে (হলে) ফিরে আসায় প্রভোস্টরাও আনন্দিত। তাদের মধ্যেও ফিরে এসেছে চাঞ্চল্যতা। ফিরে এসেছে পুরনো কাজের গতি।
শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান বলেন, শিক্ষার্থীরা আবার হলে ফিরেছে, এতে হল কর্তৃপক্ষ অনেক আনন্দিত। আশা করি সকলেই হলের নিয়মকানুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, অনেকদিন পর শিক্ষার্থীরা হলে ফিরছে। এতে আবারো মুখরিত হচ্ছে ক্যাম্পাস ও হলগুলো। ইতোমধ্যে আমরা হলের ডাইনিং ও কিচেন রুম নতুনভাবে সংস্কার করেছি। হলের সৌন্দর্য বর্ধনে চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা তাদের আবাসস্থলে ফিরতে পারছে বলেই আমরা আনন্দিত।
স্মরণকালের সবচেয়ে দীর্ঘ বন্ধের পর অবশেষে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারায় স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বন্ধুবান্ধব সকলকে একসাথে দেখতে পেয়ে হলের রুমে রুমে যেনো চলছে উৎসবের আমেজ। ‘বন্ধু তোকে কতদিন ধরে দেখিনা’ বলেই একে অন্যকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছে পর মূহুর্তেই।
শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহ নেওয়াজ বলেন, দীর্ঘ ১৯ মাস পর আবার হলে উঠতে পারলাম। বিষয়টি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। বন্ধুবান্ধব সকলকে কাছে পাচ্ছি। তাছাড়া আমরা যারা হলে উঠেছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। হল কর্তৃপক্ষের মনোরম ব্যবস্থাপনায় আমরা মুগ্ধ। অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রথম ছাত্রী হলের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয়েছে। আমিসহ বন্ধুবান্ধব যারা আছে সবার মধ্যেই প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। হতাশার অবসান হয়েছে। মনে হচ্ছে পুরনো দিনগুলোর স্বাদ পাচ্ছি।আবাসিক শিক্ষার্থী ফাউজিয়া নিশাত বলেন, হলে ফিরতে পেরে আমরা অনেক আনন্দিত।দীর্ঘদিন পর আবার আমরা সবাই একসঙ্গে হতে পেরেছি। আমরা ক্যাম্পাসটাকে খুব মিস করেছি এতদিন। আবার সেই ক্যাম্পাসে সবাই একত্র হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে একযোগে সরকারী সিদ্ধান্তের আলোকে বন্ধ হয়ে যায় শাবি ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো। দীর্ঘ ১৯ মাস পর আবারো ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীম কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে আবারো শাবি ক্যাম্পাস।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



