সিলেটে প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। বাজার করতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে সারাদেশে পেঁয়াজ, চাল, ডাল, তেল, চিনি ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে আরেক দফা।
নগরীর কাজিরবাজার কেনাকাটা করতে আসা মনির মিয়া বলেন, ‘বাজারে সব পণ্যই আছে, অথচ যেন দাম বাড়ার প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিদিনই নানা অজুহাতে বাড়ছে পণ্যের দাম। এ অবস্থায় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে।’
নগরীর ব্রহ্মময়ীবাজার, কালিঘাট ও রিকাবীবাজার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৫৫ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়।
অস্বাভাবিক বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১২০ টাকা। চিনির দামও এখন আকাশছোঁয়া। ৭৫ টাকার চিনি এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে হয়েছে ৮৫ টাকা। ৮০ টাকার ভারতীয় বড় ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দর বেঁধে দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ভোজ্য তেলের বাজার। সপ্তাহেরে ব্যবধানে লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর সুপার পামঅয়েলে লিটারের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১২৮ থেকে ১৩৫ টাকায়। খুচরা বাজারে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।
চালের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মোটা চালের দাম। কেজিতে দুই টাকা বেড়ে এখন মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা।
সবজির দাম এখনো নাগালের বাইরে। সবজির মধ্যে শিম ১০০-১২০ টাকা, ঝিঙে ৫৫-৬০ টাকা, মুলা ৫০-৫৫ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ও পটল ৫০-৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, টমেটো ১১০-১২০ টাকা এবং গাজর ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রিকাবীবাজারে কেনাকাটা করতে আসা রিক্সাচালক রশিদ মিয়া বলেন, ‘বাজারে এক–দুটি পণ্যের দাম বাড়লেই হু হু করে সব পণ্যের দামই বেড়ে যায়। যেভাবে লাগামহীন দাম বাড়ছে আমাদের খেয়ে বাঁচা দায় হয়ে পড়বে।’
বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী রকিব আলী বলেন, ‘সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মানছেন না। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক তবু দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনে এসে সে অনুযায়ী বিক্রি কিনতে হয়।’
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



