নতুন সিলেট প্রতিবেদক:: করোনা থেকে বাঁচতে শুরু থেকেই বার বার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা। হাতের মাধ্যমে চোখ-মুখে যাতে জীবানু না পৌছায়, এ জন্য সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার উপর জোর দেওয়া হয়।
সে সুবাদে পথচারিদের সুরক্ষায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগরের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় বেসিন। হাত পরিস্কার করতে তাতে সাবান-পানি রাখা হয়। যাতে চলতি পথে জনসাধারণ হাতের নাগালেই পেয়ে যান হাত ধোয়ার সুযোগ।
জনসাধারণের হাত ধোয়ার জন্য বসানো বেসিনগুলো এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় বেসিনগুলো এখন পরিত্যাক্ত। সাবান পানি বিহীন বেসিনগুলোর কোনোটির পানির টেপ নেই। পানির ড্রামে জমেছে ময়লার ভাগাড়। জমে থাকা ময়লা পানিতে হচ্ছে মশার প্রজনন।
নগরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে এবং দৃষ্টি সীমায় হাত ধোয়ার উপকরণগুলো নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকলেও দৃষ্টিকাড়েনি নগর কর্তৃপক্ষের।
অথচ নতুন করে সৃষ্ট করোনার ঢেউয়ে আক্রান্ত সিলেট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমীক্ষায় দেশে করোনার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে সিলেটের অবস্থান পাঁচ নম্বরে। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা পজিটিভ কোভিড-১৯) রোগি। হাসপাতালগুলোতে তীল ধারণের ঠাঁই নেই। মৃত্যুর ঘনঘটাও সবখানে। প্রত্যহ এক/দুই করে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ করছে মহামারি করোনা।
এ অবস্থায়ও হাত ধোয়ার বেসিনগুলো নিয়ে সিলট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ জনগণকে সুরক্ষায় সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে।ঘোষিত লকডাউন ঢিমেতালে চলার ন্যায় করোনা সচেতনতায় সিসিকের কার্যকম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগর ভবনের সামনে, রিকাবিবাজার, সুবিদবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, সুবহানিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সিসিকের বসানো বেসিনগুলো আক্ষরিক অর্থে ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। অব্যহৃত এসব সামগ্রিগুলো সরিয়েও নেওয়া হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরে বিভিন্ন স্থানে ৬০টি বেসিন বসিয়েছিল সিসিক কর্তৃপক্ষ। সেগুলোতে প্রতিদিন সাবান পানির ব্যবস্থা করণসহ পরিচর্যা বাবদ ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু দায়িত্ব অবহেলার কারণে গচ্ছা গেলো সিসিকের এই প্রকল্পের টাকা। এগুলো এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এ অবস্থায় এই খানে সিলেট সিটি করপোরেশনে সরকার থেকে আরো ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার নিয়েও এখন প্রশ্ন ওঠেছে।
নগরের রিকাবিবাজারের ব্যবসায়ী গোলাম রাব্বানী বলেন, জেলা স্টেয়ামের সামনে ফুটপাতে বেসিনটি অনেক দিন যাবত নষ্ট। এগুলোতে ময়লা পানি জমে মশা জন্মাচ্ছে। কেউ কখনো সাবান পানি নিয়ে এসে রেখে গেছে মনে পড়ছে না।
চৌহাট্টা এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম আহমদ বলেন, অকেজো হয়ে পড়ে থাকা হাত ধোয়ার বেসিনগুলোতে সিসিকের অব্যবস্থাপনার সাক্ষি হয়ে আছে। বেসিনগুলো ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এভাবে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসানো হয় বেসিন বা হাত ধোয়ার জন্য ড্রাম অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে করোনা থেকে সুরক্ষায় হাত ধোয়ার জন্য নগরে ধাপে ধাপে ৬০টি বেসিন বসানো হয়েছিল। সেগুলোতে সাবান পানিসহ সার্বিক খরচ হয় ২৬ লাখ টাকা। এসব বেসিনে প্রতি সপ্তহে ১০০ সাবান দেওয়া হতো। ২৪ ঘন্টা সাবান-পানি সরবরাহে একটি গাড়িসহ চালক ও একজন কর্মী দেওয়া হয়। কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি। আর অনেকগুলো বেসিন থেকে টেপ খুলে নেওয়া হয়েছে। যেগুলো মেরামত করার দায়িত্বে থাকা লোকজন দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। অবশ্য সেগুলো আবার মেরামত করে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করা হবে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



