সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান। সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদের আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। সিসিকের মসনদে আরিফুল হক চৌধুরীর বসার পরপরই রং পাল্টান হানিফ। হয়ে ওঠেন আরিফুল হকের আস্থাভাজন লোক। উভয়ের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হওয়াতে বিশ্বস্থ মানুষ হিসেবে হানিফকে কাছে টেনে নেন আরিফুল হক। নগর ভবনের ভেতরে অন্য নামে পরিচিত হানিফ। সামনা-সামনি না বললেও সবাই তাকে মেয়রের খাসলোক তথা বড় ছেলে হিসেবে চেনেন-জানেন।
সেই সুযোগ ভালভাবেই কাজে লাগিয়েছেন হানিফ। ধরাকে সরাজ্ঞান করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে দু’হাতে টাকা কামিয়েছেন।
সিসিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কজারভেন্সী শাখার দায়িত্বে আছেন হানিফুর রহমান। তার হাত দিয়ে সিসিকে হয় নিয়োগ বাণিজ্য। এ যাবত তার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে অর্ধশতাধিক কমলগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কনজারভেন্সী শাখাসহ বিভিন্ন শাখায় হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার দাগি অপরাধিদের নিয়োগ দিয়ে দাপট খাটাচ্ছেন। রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় এমন ৫/৭জনকে নিয়োগ দিয়েছেন বিভিন্ন পদে ।যারা তার কল্যাণে দাপট খাটাচ্ছেন। এছাড়া দৈনিক মজুরী ভিত্তিকে কাজ করা লোকজনের কাছ থেকেও টাকা কেটে রাখা এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও মার্কেট বিপনী বিতান থেকে ময়লা আবর্জনা অপসারণে কর্মীদের দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ মিলেছে।
গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে করেছেন পাহাড়সম সম্পদ।
২০০১ সালের সিসিকে চাকরী নেওয়ার আগে সোয়াম ফোমের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করা হানিফের এখন বাড়ি-গাড়ি, জমিজমা, অট্টালিকার মালিক। সিলেট সিটি করপোরেশনের বরাদ্দকৃত প্লটও রয়েছে তার স্ত্রীর নামে।
সরেজমিন দেখা গেছে, কমলগঞ্জের আদমপুরে বিশাল এলাকাজুড়ে তার মায়ের নামে আরএম ডেইরী ফার্ম করেছেন হানিফ। যেখানে কয়েক কোটি টাকার দেশি-বিদেশী গরু রয়েছে। রয়েছে মৎস খামারও। প্রায় সাড়ে ৩ একর জায়গা জুড়ে গরুর খাবারের জন্য উন্নত জাতের ঘাসের চাষ করেন।
২০১৪ সালে শুরু করা খামারের মালিক তার স্ত্রীর বলে দাবি করেছেন হানিফুর রহমান। তবে খামারটি দেখা শোনা করেন তার ভাতিজা হাবিবুর রহমান জাবুল।
তার ভাতিজা হাবিবুর রহমান জাবুল জানান, ফার্মে তার বাবা আলতাফুর রহমান, চাচা হানিফুর রহমান, তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা শরীক রয়েছেন। ফার্মটি করা হয়েছে তার দাদির নামে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, আজ থেকে একদশক আগে হানিফের তেমন কিছু ছিল না।কিন্তু সিটি করপোরেশনে চাকুরীর সুবাদে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নামে-বেনামে আরো অসংখ্য জমিজমা রয়েছে তার। আর খামারে ব্যবহৃত লোহার পিলার সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে হানিফুর রহমান বলেছেন, এসব পিলার তিনি চট্রগ্রাম থেকে কিনে এনেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিসিকের বিলবোর্ডের খুঁটিগুলো নগরের মিনিখলায় হানিফের বন্ধু সেলিমের মাধ্যমে আদমপুর পাচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোক নিয়োগ, দৈনিক মজুরীতে কাজ করা কনজারভেটিভ শাখার কর্মীদের বেতন কর্তন করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।সিসিকের ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৫৩৫টি পানির মিটার গায়েবের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিতেও ছিলেন হানিফ। এতে ৮ জনকে বরখাস্ত করা হলেও তদন্তে চারজনকে অভিযুক্ত করলেও শাস্তির খড়ক নামেনি।
এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার বাগবাড়িতে তার স্ত্রীর নামে নেওয়া প্লট কসাই খানার জন্য সিসিককে ভাড়া দিয়েছেন। তার স্ত্রী মেহেরুননেছা ওই প্লটের ভাড়া ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা বৃদ্ধির জন্য গত বছরের আগস্টে সিসিকে আবেদনও করেন। ওই আবেদনে মেহেরুন নেছা নিজের নামের পর স্বামীর নাম না বাসিয়ে পিতার নাম মো. খতিব মিয়া ব্যবহার করেন। এছাড়া নগরীতে নামে বেনামে সম্পদ করলেও চৌহাট্টা এলাকায় কুনু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকেন হানিফুর রহমান। নগর ভবনে সতীর্থরা তাকে দুর্নীতির বরপুত্র নাম দিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে হানিফুর রহমান বলেন, আমি ২০০১ সালে সিটি করপেোরেশনে চাকরী নিয়েছি। লোক নিয়োগ হয় আমার মাধ্যমেই। তবে তার নিজের স্বজনদের নিয়োগ ও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তবে ফার্মটি উদ্যোক্তা হিসেবে তার স্ত্রী করেছেন, স্বীকার করেন। তিনি সিলেট থেকে ও মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে ফার্মটি দেখাশোনা করেন। প্রায় দেড় একর জায়গা জুড়ে ফার্ম ও ১২ কেদার জায়গাতে গরুর ঘাস ফলানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।
স্ত্রীর নামে প্লট বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, চাকরীতে যোগদানের আগে তার মামা প্লটটি তার স্ত্রীকে দান করেছেন। আর নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি সঠিক নয়। একটি পক্ষ তার পেছনে লেগেছে। তার মনগড়া যা ইচ্ছা তথ্য দিচ্ছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



