নগরীর চৌকিদেখি এলাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতার নাম ভাঙিয়ে বাড়ির লোকজনকে মারধর করে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।গত ১ ডিসেম্বর ভোরে চৌকিদেখি ইলাশকান্দি উদয়ন ৩৬/২ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাসার মালিক তারা মিয়া ও রাজিয়া বেগম দম্পতির মেয়ে মোছা. ফাতেমা বেগম বাদি হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় এ মামলা (নং-৩(১২)’২২) দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নগরীর চৌকিদেখি এলাকার মৃত মানিক মিয়র ছেলে জাহিদুল ইসলাম মাসুদ, তার সহোদর মঞ্জ ও মিনার, সদর উপজেলার সানি, চৌকিদেখি ইলাশকান্দি আবাসিক এলাকার উদয়ন ৩৫/৪ বাসার মৃত বিরাই মিয়ার ছেলে সোহেল আহমদ, একই এলাকার তাহের আহমদ ও রুহুল, ফখরুল মিয়ার ছেলে নাহিদ, চৌকিদেখি বাচাম বাগিচা এলাকার ৩নং গলির কোকরা মতিনের ছেলে জিল্লু, নগরীর বনকলা পাড়া নুরানী আবাসিক এলাকার খলিলুর রহমান ও সাজ্জাদ, চৌকিদেখির দুলাল, বনকলা পাড়ার আরজু মিয়ার ছেলে লাহিন, বাদামবাগিচা সেতু বন্ধন ৫৫/১ বাসার বাসিন্দা রাজা মিয়ার ছেলে বেলাল আহমদ এবং একই এলাকার ইসলাম উদ্দিন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে অন্তত শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা স্থানীয় উদয়ন আবাসিক এলাকার ৩৬/২ বাসার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে।এরপর ঘরের দরজা ভেঙে বাসার লোকজনকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে ঘরে লুটপাট চালায়।এরপর পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় গুরুতর দুইজনকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার বাদি ফাতেমা বেগম ও তার ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সালে এই জায়গা দখল নিয়ে ২০১২ সালে তার ভাই মুহিবুল হককে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ঘটনার দিন ভোরবেলা অন্তত শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাড়ির সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে দরজা ভেঙে বসত ঘরে প্রবেশ করে। এসময় মাসুদ, মঞ্জু, রুহুল, সুহেল বলে ওদের বলার পরও বাড়ি ছেড়ে যায়নি, মেরে ফেল। এই বলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের ভাই সাইদুরের মাথায় আঘাত করা হয়।’ ‘এছাড়া তার বোনকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।’ ‘এসময় বাসায় রক্ষিত সোনা গহনা, টাকা পয়সা এমনকি গৃহপালিত ছাগলও লুটে নেয়।পরক্ষণে বাসার আসবাবপত্র তছনছ করে এবং যুবতী মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’
স্থানীয়রা বলেন, ‘হামলাকারীরা জায়গার দখল নিতে ওই পরিবারের লোকজনকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। তাদের দুজন হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
এলাকার লোকজন বলছেন, ‘হামলাকারীরা বলছে এটা আওয়ামী লীগ নেতার জায়গা। যদি তাদের জায়গা হয়ে থাকে, তবে ভোরবেলা এসে কেনো হামলার ঘটনা ঘটাবে এবং নারী-শিশুদের নির্যাতন করবে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।’
এদিকে, ‘হামলাকারীরা তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও ওই পরিবারের লোকজনকে ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভোক্তাভোগীরা প্রাণ সংহারের আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।’
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরের এয়ারপোর্ট থানার আম্বরখানা ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ পরিদর্শক) মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাদি পক্ষকে নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি। তারা পলাতক রয়েছে।’
তবে হামলা সংঘঠিত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে হামলাকারীরা উপস্থিত থাকলেও তাদের না ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তখন মামলা হয়নি।যে কারণে কাউকে আটক করাও হয়নি।এখন আসামিদের ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি।’
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, ‘বাসা দখলের চেষ্টায় হামলার ঘটনায় ওইদিনই মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টায় রয়েছি।’
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



