অবশেষে ৩ ঘন্টা জনভোগান্তির পর সিলেটে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পরিবহণ শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার(২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, অবরোধের প্রেক্ষিতে রাত ১০টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ- পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ) সোহেল রেজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রমিকদের দাবী নিয়েছেন। যে কারণে তাদের আশ্বাসে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
শ্রমিক নেতারা বলেন, তাদের সংগঠনের সভাপতি মইনুল ইসলামের উপর মামলা হওয়ার কারণে শ্রমিকরা সঙ্গে সঙ্গে সারা সিলেট ব্লক করে ফেলেছে। যদি কোনো সমাধানে না আসতো, তবে সারা বাংলাদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে যেতো। তাই দুই উপ পুলিশ কমিশনারের (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্মানার্থে অবরোধ তুলে নেওয়া হলো। তবে আজকের এই ভোগান্তির জন্য সিলেটের ব্যর্থ পুলিশ কমিশনারকে দায়ি করে বলা হয়, উনি যতক্ষণ সিলেটে থাকবেন, শ্রমিকরা শান্তিতে থাকতে পারবে না, তাই তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার চান। এছাড়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যাতে মামলা না হয়, সেক্ষেত্রে আশ্বস্ত করায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা।
এরআগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে সিলেট নগরের সকল প্রবেশদ্বার ও বিভিন্ন পয়েন্টে এলোপাতাড়ি গাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা।সিলেটের পরিবহন শ্রমিক নেতাদের নামে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা হঠাৎ করে স্লোগান দিয়ে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করেন। এতে করে যানজটে আটকা পড়ে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। এমনকি রোগিবাহি অ্যাম্বুলেন্সও চলাচল দেননি শ্রমিকরা। অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে নগরী।
নগরের টিলাগড় এলাকার কাওসার আহমদ বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে করে সিলেট-তামাবিল সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা পায়ে হেটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময় শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
একইভাবে নগরের আখালিয়া, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, চন্ডিপুল, সুবহানীঘাট, মেন্দিবাগ, হুমায়ন রশিদ চত্বর, নয়াসড়ক, শাহি ঈদগাহ, আম্বরখানা, সুরমা মার্কেট পয়েন্টেও অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়দিন আগে শ্রমিক অবরোধ চলাকালে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এক চালক বাদি হয়ে নগরের দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৪ শ্রমিকনেতার নাম উল্লেখ করা হয়। পক্ষান্তরে শ্রমিক নেতারাও আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন।
সিলেট সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজি ময়নুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুর মিয়া ফোনকল রিসিভ করে বলেন, পুলিশী হয়রানীর প্রতিবাদে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট ডেকে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে স্থগিত করি। কিন্তু পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সাহাব উদ্দিন নামে সংগঠন থেকে বহিস্কৃত এক ইমালেগুনা চালককে দিয়ে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করায় পুলিশ। ওই মামলায় শ্রমিক সংগঠনের চার নেতার নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারনামীয়দের মধ্যে রয়েছেন সিলেট সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজি ময়নুল ইসলাম, সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০৭ এর সভাপতি মো. জাকারিয়া, দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড সভাপতি আওলাদ হোসেন ও ইমালেগুনা ১৩২৬ এর সভাপতি মঈন উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হোক এবং পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক। নয়তো সড়ক অবরোধ করে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অবশেষে রাত ১০টার দিকে এসএমপি পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিক নেতার ঘোষণার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ ৩ ঘন্টার অবরোধে নগরীতে তীব্র যানজট ও যাত্রী ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
ভোক্তভোগীরা বলেন, পরিবহণ শ্রমিকরা কথায় কথায় তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তারা অন্যায় করলেও মামলা হবে না, পুলিশ নিয়মের ভেতর থেকে জরিমানা করলেও রাস্তায় নেমে হয়রানীর অভিযোগ তুলে জনভোগান্তির সৃষ্টি করবে, এটা ঠিক নয়। তাদের দাবিগুলো অন্তত যৌক্তিক থাকতে হবে। বিগত দিনে তাদের আন্দোলনের এজেন্ডাগুলোর মধ্যে পাথর উত্তোলন করতে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পাথর উত্তোলনে পরিবেশগত বিষয় জড়িত।এখানে শ্রমিক সংগঠনের দাবি তোলার কোনো মানে হয় না। তাছাড়া শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নেপথ্যে থেকে সাপোর্ট দেওয়ার কারণে তারা সুযোগ পাচ্ছে। তাদের দাবি যৌক্তিক থাকলেও আমাদেরও সমর্থন থাকতো।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



