দিনভর দুর্ভোগের পর রাতে স্থগিত হলো পরিবহণ শ্রমিক ধর্মঘট। ট্রাফিক পুলিশের হয়রানীসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেটে দিনভর ধর্মঘট পালন করে শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় সার্কিট হাউসে পরিবহণ শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।বৈঠক শেষে রাত ১০ টায় শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার ছাড়াও প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও ‘সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ’র নেতৃবৃন্দ।
বৈঠক শেষে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের সব দাবি মেনে নেবেন। তাছাড়া এসএসসি পরীক্ষা ও দুর্গাপূজার কথা বিবেচনা করে ধর্মঘট স্থগিতের অনুরোধ জানানো হয়। আর আগামীকাল থেকে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করবেন। তাই তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আগামি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত করেছি।এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পুরণ হবে, আশাবাদি তিনি।
ট্রাফিক পুলিশের হয়রানীসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেটে অনির্দিষ্টকাল পরিবহণ ধর্মঘট আহ্বান করেন পরিবহণ শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
ফলে মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর ধর্মঘট পালন করেন তারা। এদিন সকাল থেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলেও জোর খাটায় শ্রমিকরা। তারা লাঠি হাতে নিয়ে চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের গতিরোধ করেছে। মারমুখী অবস্থান নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করে। রোগিবাহি ও বিদেশযাত্রীবাহি গাড়িতেও বাধা সৃষ্টি করে শ্রমিকরা। প্রকাশ্যে লাঠিহাতে তাদের এহেন অপতৎপরতা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এদিন সিলেট নগরের প্রবেশদ্বারগুলোতে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে শ্রমিকদের অবস্থান করতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত, পন্যবাহি, বিআরটিসি বাস, রোগি ও যাত্রীবাহি গাড়ি চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করেন তারা।শ্রমিকদের পিকেটিংয়ের কারনে কেবল মোটরসাইকেল ও রিকশা ছাড়া সড়কে চলাচল করতে পারেনি।
জনসাধারণের প্রধান বাহন সিএনজি চালিত অটোরিকশাও বন্ধ থাকার পাশাপাশি দূর পাল্লার যানবাহনও নগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।ফলে দূর দূরান্তের যাত্রীরা ট্রেনেই ভরসা খোঁজে নেন।
পরিবহন শ্রমিকদের ৬টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এই কর্মবিরতির ডাক দেয়। দাবি পুরণ না হলে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে পুরো বিভাগে পরিবহণ ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে তারা।
ধর্মঘট চলাকালে বিআরটিসি বাসে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট আসা লায়েক আহমদ বলেন, বাসটি নগরে প্রবেশের আগেই দক্ষিন সুরমার আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরে আটকে দেয় শ্রমিকরা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চলাচল করলে তারা বাধা দেবেন কেন? বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়েও কোনো যানবাহন মিলেনি। তাই বেশ কিছু পথ পায়ে হেটে আসতে হয়েছে।
নগরের উপশহর এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা সাইমুম হোসেন বলেন, ব্যক্তি মালিকানা গাড়িতে (প্রাইভেট কার) করে সন্তানদের স্কুলে দিতে বের হলে শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ি। শ্রমিকরা উপশহর পয়েন্টে তার গাড়ি আটকে দিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। তখন গাড়িতে থাকা শিশু সন্তানরাও ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে। যথারীতি রাহাজানি শুরু করেছে শ্রমিকরা।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ বলেন, সিলেটের বাইরের অনেক চালক কর্মবিরতির কথা জানেন না। তাই না জেনেই তারা গাড়ি বের করেছেন।তাদের বুঝাতেই শ্রমিকরা কয়েকটি মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। তবে কাউকে জোরজবরদস্তি করা হয়নি। ব্যক্তিগত গাড়িও আটকানো হয়নি দাবি করেন তিনি।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিক নেতাদের নিয়ে রাতে বৈঠকে ডেকেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ বৈঠক আহ্বান করেন।
তবে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আলোচনা ও আন্দোলন একসাথে চলবে। দাবি পুরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
শ্রমিকদের পাঁচদফা দাবি হলো: ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি, রেকারিং বাণিজ্য ও মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা আদায় বন্ধ, মহানগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার ও অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রত্যাহার।
গাড়ি ফিটনেস মামলা সঠিকভাবে করা, সিলেট শ্রম আদালতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে হয়রানি বন্ধ এবং আদালত থেকে শ্রমিক প্রতিনিধি নাজমুল আলম রোমেনকে প্রত্যাহার। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বন্ধ পাথর কোয়ারি খুলে দিতে হবে। সিলেটের সব ভাঙা সড়ক সংস্কার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ করার পাশাপাশি অটোবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ডাম্পিং করা গাড়ি এবং অন্য জেলা থেকে আগত গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ- দীর্ঘদিন থেকে এসব দাবি জানিয়ে আসলেও আশ্বাসের মধ্যেই আটকে আছে, একটি দাবিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



