ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেটে যুবদলের সম্মলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শনিবার সকালে নগরের রেজিস্টারি মাঠে জেলা ও রোবববার সকালে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে মহানগর যুবদলের সম্মেলন শুরু হবে।
দীর্ঘ ১৯ বছরের খরা কাটছে সিলেট যুবদলের। ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব খুঁজে পাবে সিলেট জেলা যুবদল। দীর্ঘ দুই সপ্তাহের ঘাম ঝরানো প্রস্তুতি শেষ করেছেন প্রার্থীরা। শেষ মূহূর্তের লড়াইয়ে এগিয়ে গেছেন কেউ কেউ। তবে দিনশেষে নেতৃত্বের তুমুল লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।
যুবদলের নেতারা জানিয়েছেন, দুটি পদে ফলাফল আসবে কম ভোটের ব্যবধানে।এমন লড়াইয়ে রয়েছে গ্রুপ ভিত্তিক চিন্তাধারাও। আছে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পছন্দের, অপছন্দের বিষয়। সব মিলিয়ে শেষ পর্যায়ে এসে লড়াই জমে উঠেছে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে সিলেটের ১৮ টি ইউনিটের আহবায়কদের নেতৃত্বে মিছিলে নিয়ে জেলা যুবদলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসব-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সম্মেলনের শুরুতে সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর সভাপত্বিতে যুবদলের বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য লিটন আহমদ ও নেছার আহমদ যৌথ পরিচালনায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এসময় দোয়া পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদি লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান।এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
সিলেট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু জানিয়েছেন, ‘আমরা যুবদলকে জয়ী দেখতে চাই। এর জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবই করেছি। কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাউন্সিলররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন সেই ব্যবস্থাই করা হয়েছে। ভোটে হচ্ছে নেতৃত্বের লড়াই। আগামীকাল থেকে আবার যুবদলের সব নেতারা একসঙ্গে সক্রিয় হবেন। এখানে বিভক্তি নয় বরং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা চলছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতারাও সম্মেলন ও কাউন্সিল সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে যুবদলের কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা যুবদলের এবারের কাউন্সিলে সভাপতি পদে ৩ জন প্রার্থী। এ ৩ জনই নতুন মুখ। ছাত্রদলের সাবেক পরিশ্রমী নেতা তারা।
প্রার্থীরা হলেন- সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সাঈদ আহমদ, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন ও সাবেক ছাত্রনেতা সাহেদ আহমদ চমন।
কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, এডভোকেট সাঈদ আহমদ ও এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন রয়েছেন মূল লড়াইয়ে। তাদের দু’জনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এডভোকেট সাঈদ আহমদ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হওয়ায় তার পরিচিত ও কর্মী মহলে গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এখন উপজেলা ও পৌর পর্যায়ে যারা যুবদল করছেন তারা অনেকেই সাঈদের সঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। তবে, কম যাচ্ছেন না অপর প্রার্থী এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিনও। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকের সুনজরে থাকার কারণে শেষদিকে এসে তার ভোটব্যাংক বেড়েছে। ফলে জয়ের জন্য আশাবাদী এডভোকেট মুমিন। সাহেদ আহমদ চমন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক পরিশ্রমী নেতা। তারও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কর্মী পর্যায়ে।তিনিও ভোটের মাঠে সরব প্রচারণা চালিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদেও তিন প্রার্থী।
কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, লড়াই হতে পারে ত্রিমুখী। কারণ, কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। সমানতালে চালিয়েছেন প্রচারণা।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য লিটন আহমদ ও নেছার আহমদ। ৩ জন থেকে যে কেউ নির্বাচিত হতে পারেন বলে ধারণা করছেন কাউন্সিলররা।
কেউ বলছেন, লড়াই হবে মকসুদ ও নেছারের মধ্যে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লড়াই হবে মকসুদ ও লিটনের মধ্যে। তবে,জেলা যুবদলে পরিশ্রমী নেতাদের মধ্যে সবার আগে আসে মকসুদ ও লিটনের নাম। দুই জন একই পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে অনেক কাউন্সিলররা বিব্রত। আর এই ভোটকে টানার চেষ্টা করছেন নেছার আহমদ। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে জেলা যুবদলকে মাতিয়ে রেখেছেন মকসুদ ও লিটন। দুজন আবার একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহপাঠী। ফলে তাদের মধ্যে লড়াইয়ে কাউকেই এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। আর নেছার আহমদের হচ্ছে নীরব ভোট। প্রচারণায় তিনি মকসুদ, লিটন থেকে পিছিয়ে থাকলেও তার উপর সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছায়া রয়েছে। এ কারণে মকসুদ, লিটন থেকে নেছারকে এগিয়ে রাখছে একটি অংশ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



