দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান আর নেই । বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আকবর আলি খানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর ছোট ভাই কবীরউদ্দিন খান।
পরিবারের লোকজন আকবর আলী খানকে অচেতন অবস্থায় রাতে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজির পরে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আকবর আলি খানের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ইতিহাস নিয়ে। এরপর অর্থনীতি নিয়ে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে। পিএইচডিও করেছেন অর্থনীতিতেই। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানের সামরিক আদালতে তার ১৪ বছরের সশ্রম কারদণ্ড হয়েছিল।
বর্ণাঢ়্য কর্মজীবন:
ড. আকবর আলী খান দেশ স্বাধীনের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সভাপতি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালনের পর সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান। এক-এগার সময়কালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাও করেছেন তিনি।
অবসরের পর তিনি লেখালেখিতে মনযোগ দেন। ইতিহাস, সমাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্যের ওপর তার লেখা বই বেশ সমাদৃত হয়েছে পাঠকের কাছে। তার মোট ১৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাম্পটি ডাম্পটি ডিসঅর্ডার অ্যান্ড আদার এসেস, গ্রেশাম’স ল সিন্ড্রম অ্যান্ড বিঅন্ড, দারিদ্র্যের অর্থনীতি: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, ডিসকভারি অব বাংলাদেশ, আজব ও জবর আজব অর্থনীতি, চাবিকাঠির খোঁজে: নতুন আলোকে জীবনানন্দের বনলতা সেন, অবাক বাংলাদেশ: বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, বাংলায় ইসলাম প্রচারে সাফল্য: একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং দুর্ভাবনা ও ভাবনা: রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। পুরানো সেই দিনের কথা- নামে সর্বশেষ তার আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়েছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



