সিলেট যুবদলের কাউন্সিলের কর্তৃত্ব নিলো কেন্দ্রীয় যুবদল। সম্মেলন ও কাউন্সিল নিয়ে যে বিভাজন দেখা দিয়েছিল সেটি আপাতত কমে গেছে। কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান ও সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন সিলেট সফর করে যাওয়ার পরপরই নেতৃত্বের লড়াইয়ে নেমেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর নগরীর রেজিস্ট্রার মাঠে জেলা ও ১১ই সেপ্টেম্বর সুলেমান হলে মহানগর যুবদলের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন ও কাউন্সিলকে সামনে রেখে এক দফা মনোনয়নপত্র বিক্রয় করা হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্রের মূল্য, প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা সহ নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে কাউন্সিলের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে এসে আলোচনার মাধ্যমে সব স্বাভাবিক করে দাম কমিয়ে ফের মনোনয়নপত্র বিক্রয় করেন। পরে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়েছে।
সিলেট বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, যুবদলের কাউন্সিলে যে নীতিমালা করা হয়েছে সেটি মন্দের ভালো। যদি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা আরও শিথিল করা হতো তাহলে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে অনেক নেতা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে পারতেন। যারা এখন প্রার্থী হয়েছেন তারা জেলা ও মহানগরের অধিভুক্ত সংগঠনের সদস্য।
এদের বাইরেও যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। এদিকে- শনিবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিনে জেলা ও মহানগর যুবদলে চারটি পদে প্রার্থী হয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে প্রতিটি পদে তিন জন করে প্রার্থী হয়েছেন। জেলার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সাঈদ আহমদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহমদ চমন। সাধারণ সম্পাদক পদেও তিন প্রার্থী। এরা হলেন- বর্তমান সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, সিনিয়র সদস্য লিটন আহমদ ও নেছার আহমদ। মহানগর সভাপতি পদে তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন- বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব শাহ নেওয়াজ বক্ত তারেক, তোফাজ্জল হোসেন বেলাল ও নজরুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হলেন- সাবেক ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক স্বপন, মীর্জা সম্রাট ও উমেদুর রহমান উমেদ। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে সফরকালে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় চলে গেছেন। তারা সম্মেলন ও কাউন্সিলকে সফল করতে আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে সিলেটে আসবেন বলে জানিয়েছেন যুবদল নেতারা। সিলেটে এসে তারা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন। এদিকে- মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ফের প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা।
জেলার নেতারা গোটা জেলায়ই চষে বেড়াচ্ছেন। আর মহানগর নেতারাও চষে বেড়াচ্ছেন মহানগর এলাকা। এখন প্রার্থীরা স্ব স্ব ইউনিটে গিয়ে মতবিনিময় করছেন। প্রার্থী হওয়ার স্বপক্ষে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করছেন কাউন্সিলরদের কাছে। সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী এডভোকেট সাঈদ আহমদ জানিয়েছেন, যারা জেলার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন সবাই যোগ্য প্রার্থী। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটাররা যাকে রায় দেবেন তিনিই হবেন পরবর্তী সভাপতি। আমরা প্রচারণায় আছি। সিদ্ধান্ত কাউন্সিলরদের। তারা যে রায় দেবেন আমরা মাথা পেতে নেবো। এদিকে- সভাপতি পদে অপর দুই প্রার্থী এডভোকেট মুমিন ও সাহেদ চমন গতকাল কয়েকটি উপজেলায় প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া মকসুদ আহমদ জানিয়েছেন, সিলেট জেলা যুবদল এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
যুবদলের আগামী নেতৃত্ব এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি। অপর প্রার্থী লিটন আহমদ জানিয়েছেন- মাঠের রাজনীতিতে শক্তিশালী হতে হলে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ জন্য এবার ভূমিকা রাখার সুযোগ এসেছে কাউন্সিলরদের। চাপিয়ে দেয়া নেতৃত্ব নয়, পছন্দের নেতৃত্ব বাছাই করার সুযোগ রয়েছে কাউন্সিলরদের। তাদের সুচিন্তিত মতামতই সিলেট যুবদলকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে পারে। সিলেট মহানগর যুবদলে নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই জমে উঠেছে। এবার যারা প্রার্থী হয়েছেন সবাই নতুন। ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে নগরে যুবদল চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী দলের নেতারা।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



