গত এক সপ্তাহে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১১টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই খুনের শিকার হয়েছে। এনিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর রহস্য উদঘাটনসহ জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সর্বশেষ গত বুধবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহসহ মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে চার সন্তানের জননী মরদেহ ও হবিগঞ্জ পৌরশহর থেকে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট মহানগরীর উত্তর বালুচরের সোনার বাংলা আবাসিক এলাকার সেকান্দর মহল নামক (৩৬৪ নং) পাঁচতলা বাসা থেকে আফিয়া বেগম সামিহা নামের এক মহিলার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাঙ্গাইল তুয়াকুল গ্রামের আজির উদ্দিনের মেয়ে। এ ঘটনায় তার কথিত স্বামী ইসমাইল নিয়াজ খান ও রুমমেট মোছা. মাজেদা খাতুন মুন্নি (২৯)-কে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মূলত অসামাজিক কার্যকলাপের টাকার দ্বন্দে তাকে খুন করা হয় বলে র্যাব জানিয়েছে।
একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আনোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক এনজিও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। ক্লু-লেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ফয়জাবাদ এলাকার মো. আব্দুল মতিন মিয়ার দেড় বছর বয়সী শিশু কন্যা তোহা আক্তারের মরদেহ পরদিন ২৫ আগস্ট বিকেলে একটি লেবু বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। মামলা মোকদ্দমার বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ একই গ্রামের ফুল মিয়া পুত্র জুবায়েল আহমেদ ও আবুল হোসেনের পুত্র তারেক মিয়াকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট বুধবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়গোফ টিলার পশ্চিম অংশের নীচে কড়ুইগড়া রাস্তায় আব্দুল হাসিম (৬৫) নামের এক মুয়াজ্জিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়গোফ টিলার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে এবং বড়গোফ টিলার মসজিদের মুয়াজ্জিন। এ ঘটনায় নিহতর পুত্রবধূ জুবাইদা ও সাত বছরের নাতি শাকিব নামে আরও দুইজনকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। তাদেরকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট রোববার সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে খাদিজা আক্তার (২৪) নামের ৯ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের শামিম আহমেদর স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্ধ গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যর জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মারা যাওয়া খাদিজার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
একই দিন সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানাধীন টুলটিকর এলাকার মিয়াবাগের বন্ধন হাউস থেকে রাজমিন বেগম (৪০) নামের তিন সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর নির্যাতনে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে নিহত রাজমিনের বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি করেছেন। তিনি ওই এলাকার নাছির উদ্দিনের স্ত্রী ও মিরাপাড়ার মৃত ইছন মিয়ার মেয়ে।
২৮ আগস্ট বিকেলে স্বামীর নির্যাতনে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাজনা বেগম (৪২) নামের তিন সন্তানের জননীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে পালানোর সময় তার স্বামী সুলতান মিয়াকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশে সোপর্দ করেন সাজনার স্বজনরা। সাজনা ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বাউভোগলী গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর মেয়ে। আর দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের ফুলকারগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে।
৩১ আগস্ট মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রাম থেকে এক পা কলসিতে ঢুকানো, গলা এবং কোমরে রশি বাঁধা অবস্থায় মিনা বেগম নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রামের কলিমুল্লাহর ছেলে লেচু মিয়া ওরফে লেইছ মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় তার স্বামী লেইছ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এটাকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন মিনা বেগমের বাবার বাড়ির লোকজন।
৩১ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বস্তা বন্দি অবস্থায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও এলাকায় সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারনা ৩ দিন আগে কেউ তাকে খুন করে লাশ ঘুম করতে বস্তাবন্দী করে এখানে রেখে গেছে। লাশটি পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো বলে জানান তিনি।
একই দিন মৌলভীবাজারের রাজনগরে কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীচক গ্রামের পুকুর থেকে চার সন্তানের জননী এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ মৃতদেহের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল একটি ড্রাম। অপর পা একটি কলসির মধ্যে ঢুকানো ছিল।
এছাড়া বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শহরের পুরানমুন্সেফি এলাকার পুকুর থেকে সাজন দাশ নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে হবিগঞ্জ হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। পুরানমুন্সেফি রামচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সাজন দাশ শহরের কামারপট্টি এলাকার বাসিন্দা রবিন্দ্র দাশের ছেলে।
এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার (এডমিন ও ফিন্যান্স) মো. জেদান আল মুসা বলেন, আমরা প্রত্যেকটি ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের কারণ বের করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের ডিআইজি স্যারের দিকনির্দেশনায় প্রতিটি থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



