শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইল কে ‘ফোনে ও অফিসে’ পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীনের নিকট লিখিত আবেদনপত্রে এ অভিযোগ দেন তারা।
আবেদন পত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ইস্যুতে গত চারমাসে প্রক্টর মহোদয়কে অসংখ্যবার কল দিয়েছি। কিন্তু তাকে পাওয়া গেছে মাত্র ৮-৯ বার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি ফোন ধরেন না। কল না ধরলে পরবর্তীতে তিনি সে কলব্যাক করারও প্রয়োজন বোধ করেন না। কয়েকবার সহকারী প্রক্টরদের সাথে যোগাযোগ করে মিটিংয়ের সময় নেয়া হলেও তিনি বারবার হয় মিটিং পিছিয়ে দিয়েছেন কিংবা উধাও হয়ে গেছেন। অন্যান্য কাজ ফেলে প্রক্টরের দেয়া সময় অনুযায়ী অফিসে তার সাথে দেখা করতে গিয়ে অনেকবারই তাকে পাইনি। তার সাথে দেখা করতে গেলে প্রায় প্রতিবারই তাকে প্রক্টর অফিসে পাওয়া যায় না।
একাধিক দায়িত্বের ভারে প্রক্টর নুয়ে পড়ছে বলে অভিযোগপত্রে তারা বলেন, প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়াও বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে আমরা মনে করি, দায়িত্বের ভারে তিনি নুইয়ে পড়েছেন। মূলত একজন প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাজনিত কাজে ব্যস্ত থাকবেন, কিন্তু তিনি প্রক্টরের কাজ ব্যতীত অন্য কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন। আমরা মনে করি, প্রক্টর নিজ দায়িত্ব ছাড়া অন্য কোন মিটিং বা কাজে ব্যস্ত থাকা উচিত নয়, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য তাকে যথাসময়ে পাওয়া যায় না, যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এমনকি আমাদের বহু দাবিদাওয়ারও নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
তাই সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দাবী, তার উপর প্রক্টরের দায়িত্ব ব্যতীত অন্যান্য কাজগুলোর বোঝা কমিয়ে তিনি যাতে প্রক্টর হিসেবে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা জরুরি প্রয়োজনে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে বা তার নাম্বারে ফোন দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেন তিনি ফোন ধরেন না বা অফিসে পাওয়া যায় না সে ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে নওরীন জামান, অনিক সজিদ আহসান, ইমু আনজুম উমর ফারুকসহ অন্যরা আবেদনপত্রটি জমা দেন।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমি শুনেছি শিক্ষর্থীরা অফিসে একটি চিঠি দিয়ে গেছে । আমি এখন অফিসের বাহিরে আছি, যার কারণে তারা কি বিষয়ে চিঠি দিছে সেটা আমার জানা নেই।
রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেনের মোবাইলে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে জানতে প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলে তিনি কল কেটে দেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



