পুলিশ সুপার সিলেটে তিন বছর সময় পার করেছেন সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। কর্মকালীন এই সময়ে পরতে পরতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে গেছেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় থেকে মানবিকতায় নিজের দক্ষতাকে উজাড় করে কাজে লাগিয়েছেন। দিয়েছেন অসীম কৃতিত্বের পরিচয়।
পুলিশ লাইন্সে পথে অভ্যন্তরে স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। স্বাধীনতার ৫০ বছরে অনাদরে পড়ে থাকা পুলিশ লাইন্স অভ্যন্তরে গণকবর। সেটি সংরক্ষণ করে স্মৃতি স্তম্ভে ‘স্মৃতি ৭১’ নামকরণ করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে ১৩টি থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ‘সংরক্ষিত চেয়ার’ স্থাপন করেছেন।

পদোন্নতি পেয়ে এরইমধ্যে বদলীর আদেশ হয়েছে তাঁর। তাই যাবার বেলায় সব ভাল কাজের অবদানস্বরূপ এসপি ফরিদ উদ্দিনকে স্মারক সম্মাননা দিলেন সিলেটে জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বুধবার (১০ আগস্ট) নগরের মাছিমপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হলরুমে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের নেতৃবৃন্দ।
সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল।

বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেটে যোগদানের পর পরই মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেন। কোনো কাজে মুক্তিযোদ্ধাদের তার দফতরে যাওয়ার লাগেনি, আগেই কাজ হয়ে গেছে। ১৩টি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে চেয়ার দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এমন শ্রদ্ধা খুব কম কর্মকর্তার মধ্যে পেয়েছি। এছাড়া দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর গত হয়ে গেছে। এরমধ্যে অন্তত ৩০ জন এসপি সিলেট কাজ করে গেছেন। কিন্তু কেউ বধ্যভূমির (গণকবর) দিকে নজর দেননি। এসপি ফরিদ ২৩ লাখ টাকা খরচ করে ‘স্মৃতি ৭১’ নাম দিয়ে সেই গণকবর সংরক্ষণ করেন এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের নিয়ে উদ্বোধন করেন। তার কর্ম মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক বান্ধব ছিল। বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল করেছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ বান্ধব এই অফিসারকে মনের টানে সম্মানতা দিয়েছি।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রা্প্ত সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে সর্বদা বুকে লালন, ধারণ করেই পথ চলেছি। কেননা, আমার আত্মপরিচয় আমি বাঙ্গালী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। আর আপনারা জাতির সূর্য সন্তান। আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া সম্মাননা আমার জন্য বিরল। আমাকে সংবর্ধনা দিয়ে ঋণের আবদ্ধ করে ফেললেন।

তিনি বলেন, যারা এই দেশ উপহার দিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। মুক্তিযোদ্ধারা কি পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মুক্তিযোদ্ধে যাননি। শুধু দেশকে পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের অনেকে ওই সময় শহীদ হয়েছেন। তারাতো কোনো সুবিধা পাননি। যারা বেঁচে ছিলেন তাঁদের অনেকেই মারা গেছেন। যারা এখনো বেঁচে আছেন, তাঁদের সম্মান করার মতো আর কয়দিন সময় পাবো আমরা।সব সময় যেনো আপনাদের ভালবাসা ও দোয়া নিয়ে বাচতে পারি, মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষে কথা বলতে পারি, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলতে পারি, এটাই চাওয়া।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি পুলিশ লাইন্সে এমন জায়গায় করেছি, যেনো কেউ প্রবেশ করলে চোখে পড়তেই হবে।যে কারণে সেটি অযত্মে থাকবে না। প্রতি থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চেয়ার দিয়েছি। এই চেয়ার সরিয়ে দেওয়ার শক্তি কারো নেই। আমি আমার সব পুলিশ সদস্যদের বলে দিয়েছি আপনাদের খেয়াল রাখতে। কিভাবে সম্মান দিতে হয় সেটাও শিখিয়েছি।এরপরও যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

সিলেট জেলা সাংস্কৃতিক কমান্ডের আহবায়ক আংশুমান দত্ত অঞ্জনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোয়াইনঘাট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আব্দুল হক, কানাইঘাট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নজমুল হক, সদরের সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রইছ আলী, সিলেট মহানগরের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, সিলেট জেলা ইউনিট এর ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্রাম আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্না লাল রায়, ৭১ এর ঘাতক দালার নির্মুল কমিটি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি এডভোকেট শামছুল ইসলাম পিপি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সবুজ, সন্তান কমান্ডের আহবায়ক মনোজ কপালী মিন্টু, যুগ্ম আহবায়ক জাকারিয়া চৌধুরী জাকি, সদস্য সচিব এম এইচ পাভেজ বিশ্বাস, সদস্য ডিপজল পাত্র।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭১ এর ঘাতক দালাল নিমুল কমিটি মহানগরের কিশোর কুমার কর, মনোরঞ্জন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী পরিবারের পক্ষে কাবুল আহমদ শাহ প্রমুখ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



