সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় বাসা থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ও পরে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।
পুলিশ বলছে, ওই বাসায় সেদিন রাতে চালিত জেনারেটরের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি। তবে ফরেনসিক ও ক্যামিকেল রিপোর্ট আসার পরই চূড়ান্তভাবে ধোঁয়াশা কাটবে। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মারা যাওয়া রফিকুলের স্ত্রী, ছেলে ও একমাত্র মেয়ে। তবে চিকিৎসা শেষে স্ত্রী ও ছেলে তাজপুরের বাসায় চলে গেলেও ১০ দিন ধরে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন একমাত্র মেয়ে সামিরা। বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
এসময় তিনি বলেন, আমরা আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এসময় হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলামকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে অনেকটা বুঝা যাচ্ছে যে, ওই রাতে তাদের বাসায় যে জেনারেটর চলছিল সেটি থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিল। প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের সময় এবং আজও হুছনারা আমাদের বলেছেন- ওই জেনারেটর যখনই চালু করা হতো- তখন তার ছোট ছেলে (মারা যাওয়া) মাইকুলের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যেত। ওই রাতেও জেনারেটরের প্রচুর ধোঁয়া বের হওয়ার ফলে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে প্রবাসীদের এমন অবস্থা হতে পারে। সে সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর।
ফরিদ উদ্দিন আরও বলেন, আমরা আজ যত সময় ওই বাসায় ছিলাম এর মধ্যে কিছু সময় জেনারেটর চালু ছিল। এই কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের মাঝে অস্বস্তিকর অবস্থা শুরু হয়। তাই আমাদের ধারণা মতে- বিষয়টি জেনারেটরের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকেই হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জেনারেটরের কিছু ধোঁয়া সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পেলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।
এ বিষয়ে ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল গফফার বলেন, হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম এখন পুরোপুরি সুস্থ। আজ তারা বাসায় ফিরে গেছেন। তবে তাদের কিছু ওষুধ এখনও চলছে।
তিনি বলেন, এ দুজন সুস্থ হলেও সামিরা এখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিইউতে আছেন। একবারের জন্যও তার জ্ঞান ফেরেনি এবং কিডনি ও লিভার আগের মতোই কাজ করছে না। প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারের মঙ্গলচণ্ডী স্কুল রোডের একটি বাসার একটি কক্ষ থেকে একই পরিবারের ৫ যুক্তরাজ্যপ্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন মারা যান। মৃত দুজন হলেন- ওসমানীনগর উপজেলা দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতুপুর) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) এবং রফিকুলের ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬)।
ঘটনার পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫), বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) সিওমেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ দিনের মাথায় হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও সামিরা ইসলাম এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। একবারের জন্যও তার জ্ঞান ফেরেনি। তিনি এখনও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। এখনও সামিরার কিডনি ও লিভার কাজ করছে না।
ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে পিতা-পুত্রের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। ওই দিন বিকাল ৩টায় দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল মাদরাসা মাঠে বাবা-ছেলের জানাজা শেষে খাতুপুর গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নতুনসিলেট২৪ডটকম / আল-আমিন
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



