ভয়াবহ বন্যায় সিলেটে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বই নষ্ট হয়েছে। তাই ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন মাঠ প্রশাসন। এ অবস্থায় সিলেটে সিলেটে বিক্রি করা হলো ট্রাক ভর্তি বই।
শনিবার (৩০ জুলাই) একটি পিকআপ ভর্তি বিক্রিত সরকারি বইসহ জড়িত দু্ইজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নৈশ্য প্রহরি বইয়ের চালান বিক্রি করে এবং ক্রয়কারীরা সেটি নগরের কাজিরবাজার এলাকায় নিয়ে আসলে পিকআপ ভর্তি বইগুলো জব্দ করে কোতোয়ালি পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেনীর প্রায় দেড় হাজার কেজি ওজনের নতুন বই মাত্র ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন নৈশ্য প্রহরি শাহাব উদ্দিন। বইগুলো কিনেন কাজিরবাজারের পুরাতন মালামাল ক্রয়বিক্রয়কারী আনোয়ার হোসেন। খবর পেয়ে পুলিশ বইগুলো জব্দ করে।
সিলেটের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, জব্দকৃত বইগুলো গোয়াইনঘাট শিক্ষা কর্মকর্তার নৈশ্য প্রহরি সাহাব উদ্দিন বিক্রি করে দিয়েছিল। বইগুলো কিনে আনার দায়ে আনোয়ার হোসেন নামে কাগজের ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বই বিক্রেতা গোয়াইনঘাট শিক্ষা অফিসের নৈশ্য প্রহরিকেও আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরখানেক ধরে গোয়াইনঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শ্যামল কুমারকে দিয়ে ওই পদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু তিনি ১ম শ্রেনীর কর্মকর্তা না হওয়াতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের উপর দায়িত্ব ন্যাস্ত রয়েছে। এ অবস্থায় নৈশপ্রহরী শাহাব উদ্দিন গোডাউন থেকে বইগুলো বিক্রি করে দেন।
শ্যামল কুমার বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়ে বলেন, বই উদ্ধারের খবর পেয়ে গোডাউনে যান।নৈশপ্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে সে অস্বীকার করে।একপর্যায়ে শাহাব উদ্দিন স্বীকার করে বলেন, বন্যার পানিতে ভিজে যাওয়া কিছু বই বিক্রি করে দিয়েছেন।
সিলেট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে ঢাকার পথে রয়েছেন। বইগুলো বিক্রির কথা জানতে পেরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতুল চন্দ্র সরকারকে প্রধান করে কমিটিতে রেখেছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে।
তিনি বলেন, জানতে পেরেছি নৈশপ্রহরী বইগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন।বইগুলো বন্যার পানিতে ভিজে গেলেও বিক্রি করার কথা নয়। এগুলো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আর বিক্রি করতে গেলেও কমিটির মাধ্যমে একটি প্রক্রিয়ায় বিক্রি করতে হয়।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, সরকারি বই বিক্রির ঘটনাটি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার ্আলী শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, নগরের কাজিরবাজারের পুরাতন বইয়ের ব্যবসায়ীরা বইগুলো কিনে আনেন। নতুন বইগুলো এ বছরের হওয়াতে আমরা জব্দ করেছি। এ বিষয়ে তদন্তক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিক্রি করা বইগুলো নতুন বছরের হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



