শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল আহমদ (২২) খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইশফাকুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা (নং-২৮(৭)’২২) দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত একাধিক দুস্কৃতিকারীদের আসামি করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাতে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এসএমপির জালালাবাদ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করা হয়, জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খাঁন।
লিখিত অভিযোগে রেজিস্ট্রার উল্লেখ করেন, সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. বুলবুল আহমদ (২২) বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসের গাজিকালুর টিলা নামক স্থানে বেড়াতে গিয়ে একাধিক দুস্কৃতিকারীর কবলে পড়ে এবং অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মতে, বুলবুলের বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু ঘটে। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষের অনুমোদন ও নির্দেশক্রমে এজাহার দাখিল করা হয়।
এদিকে, বুলবুল খুনের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভীড় করেন। হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদও।
সেসময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তে এমন ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।
হাসপাতাল থেকে ফিরে রাতে সাড়ে ১০টার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তাল করে তোলেন ক্যাম্পাস এলাকা। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে জবাবদিহিতার অবস্থান করে জানতে চান ক্যাম্পাসে কি করে শিক্ষার্থী হত্যা করা হলো? ক্যাম্পাসে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
প্রতিবাদে তারা সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে।পরে ভিসি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদসহ শাবি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাত পৌণে ১টার সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
ভিসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, যতদ্রæত সম্ভব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এভাবে খুন হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা সবাই ব্যথিত এবং শোকাহত। আপনাদের সব দাবি-দাওয়া পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এরপর অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে শাবি ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ক্যাম্পাসে বেগম সিরাজুন্নেছা হল সংলগ্ন গাজিকালুর টিলায় শিক্ষার্থী বুলবুল ছুরিকাহত হন। পরে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মো. বুলবুল আহমদ নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার নন্দীরপাড়ার চিনিশপুরম গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার ছেলে। তিনি শাবিপ্রবির লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের(২০১৮-১৯ সেশন) শিক্ষার্থী ছিলেন।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



