সিলেট নগরের মিরাবাজারে যুবককে কুপিয়ে পাল্টা মামলা দিলেন মামুনুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নগরের মিরাবাজার ছন্দানীটুলা উদ্দীপন ১৮/১ বাসার বাসিন্দা ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। তার হামলার শিকার প্রতিবেশি ছন্দানীটুলা উদ্দীপন-১৩ নং বাসার মরহুম আফতাব মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম।
শনিবার (২৩ জুলাই) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন নগরের মিরাবাজার এলাকার ছন্দানীটুলা উদ্দীপন-১৩ নং বাসার মরহুম আফতাব মিয়ার মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আছিয়া খাতুন রুনা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দুই বছর আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে মামুনুর রশিদ ছন্দানীটুলা উদ্দীপন ১৮/১ বাসার জায়গা ক্রয় করে সেখানে বাসা নির্মাণ শুরু করেন। বাসা নির্মাণের সময় সামনের রাস্তাটির কিছু অংশ দখল করে নেন। স্থানীয়দের যাতায়াতের এ রাস্তার অংশ দখল করায় রুনার ভাই সিরাজুল ইসলামসহ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মামুন।
রুনা বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর ভেতরে বাসা নির্মাণ করতে হলে পাশ্ববর্তী রাস্তার পাশে ৩ ফুট জায়গা ছেড়ে ঘর তৈরি করতে হয়। কিন্তু মামুন ৩ ফুট রাস্তাতো ছাড়েনইনি, উল্টো রাস্তার কিছু অংশ বাসার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এতে স্থানীয়রা গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়েন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় কাউন্সিলর ছয়ফুল আলম বাকের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
এদিকে, রুনার ভাই সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বেশি সোচ্চার হলে তার প্রতিবেশি মামুন ক্ষিপ্ত হন। মামুন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে সিরাজ ও তাঁর পরিবারকে হুমকি-ধমকি, এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেন। এরই জের ধরে গত ১২ জুন সন্ধ্যায় সিরাজুল ইসলাম বাসা থেকে বের হতেই ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে তার উপর হামলা করেন মামুন।
হামলাকারীরা সিরাজকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিরাজকে উদ্ধার করে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভাগ্যক্রমে সিরাজ বেঁচে যান।
এ ঘটনার পর চিকিৎসা নিয়ে ফিরে সিরাজ বাদি হয়ে মামুনসহ ৮/৯ জনকে আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুনা আরও বলেন, বর্বর হামলার পর মামুনুর রশীদ উল্টো আহত সিরাজকে প্রধান এবং তাঁর বৃদ্ধ মাসহ পারিবারের ১০/১২ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সিরাজের পরিবার জামিনে আছেন।
জামিনে থাকলেও সিরাজ ও তার পরিবারের প্রত্যক সদস্য জান-মালের হুমকিতে আছেন। শুধু সিরাজের পরিবারই নয়- যুক্তরাজ্য থেকে আসা তার বোন রুনাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন মামুন। প্রাণের ভয়ে সিরাজসহ তার পরিবার নিজ বাসায় এবং রুনা তার পৈত্রিক বাসায় যেতে পারছেন না।
অপরদিকে, নির্যাতনকারী মামুনুর রশীদ হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে ধরছে না। এ অবস্থায় মামুনের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে এবং তার শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন রুনা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রুনার মা শাহানা বেগম, ভাই (আহত) সিরাজুল ইসলাম, মিনহাজ মিয়া, সিবগাত খান আফজল, জহিরা চৌধুরী, মো. সুয়েজ হোসেন ও আব্দুল হাই প্রমুখ।
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



