সিলেটের ওসমানীনগরে ভ্যাপসা গরমে লোডশেডিং হচ্ছে চরমে। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিংও। ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভ্যাপসা গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে ওসমানীনগরে। আবার ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ বার লোডশেডিংও হচ্ছে। এমন অবস্থায় হাঁপিয়ে উঠছে গ্রাহকদের জনজীবন। গত দু’দিন ধরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত একটানা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চরে যাবার পর থেকে বন্ধ করে রাখা হয় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও এজিএমএর মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্ঠা করে ডিজিএম সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। বদ্যুৎ অফিসে বার বার ফোন করেও কোনো সাড়া পায় না গ্রাহকরা।
লোডশেডিংয়ে উদাসীন কর্মকর্তারা। উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহক সহ সচেতন মহলের ধারণা নতুন ডিজিএম জামায়াত বিএনপির এজেন্ট হওয়ার কারণে করকারের সাফল্য ম্লান করতে পরিকল্পিতভাবে ওসানীনগরে পল্লী বিদ্যুৎের এব অবস্থা করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুেেতর এমন অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালী আচরণের কারণে ফুঁসে উঠছেন উপজেলা ৭৮ হাজার গ্রাহক। এমন অবস্থা চলতে থাকলে যেকোনো সময় ওসমানীনগরে ঘঠতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সারা উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৭টায় বিদ্যুতের দেখা পাওয়া গেলেও ভ্যাপসা গরমে নির্ঘোম রাত কাটয়েছেন অনেকেই। পরদিন শনিবার (১৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে লোডশেডিং শুরু হয় উপজেলাজুড়ে। পরদিন সকাল ৮টায় মিলে বিদ্যুৎ। তাও আবার স্থায়ী নয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য। এই ঘরমে এতো লম্বা লোডশেডিংয়ের কারণ জনতে গ্রহকরা কাশিকাপন পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের মোবাই নাম্বারে বার বার কলে দিলেও সংযোগ পান না। একই সাথে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভাবিয়ে তুলছে গ্রাহকদের। এমন পরিস্থিতিতে গ্রহকরা সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাশিকাপন পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুজিবুর রহমান যোগদানের পর থেকে বিদ্যুৎ অফিসকে নিজের ইচ্ছা মতো পরিচালনা করছেন। ঘণ্টা পর ঘণ্টা লোডশেডিং এর পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক বা উপজেলার রাজনৈতিক কোন ব্যক্তির ফোন রিসিভ করেন না তিনি। দেশের সকল জায়গায় বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে লোডশেডিংয়ের রুটিন করা হলেও ওসমানীনগরে কোন রুটিন বা নিয়ম মানা হচ্ছে না। এই গরমে দিন ছাড়াও সারা রাত ধরে লোডশেডিং হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের অনেকেই জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় হাসপাতালসহ চিকিৎসা কেন্দ্রে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সেবাগ্রহীতার ভিড় বাড়ছে। সব মিলিয়ে প্রচন্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে উপজেলার সর্বত্রই জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি ও দুঃসহ যাতনা।
উপজেলার কয়েকজন গ্রাহক জানান- দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ওসমানীনগরে সারা রাত লোডশেডিং হচ্ছে। অন্য এলাকায় রুটিন থাকলেও ওসমানীনগরে মনগড়া ভাবে লোডশেডিং করে গ্রাহকদের উসকিয়ে তুলছেন পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।
ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণ জানতে রবিবার (১৭ জুলাই) একাধিকবার কাশিকাপন পল্লীবিদ্যুৎ জোন অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুজিবুর রহমান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল দিয়েও তিনি রিসিভ করেননি। সুত্র: দৈনিক উত্তরপূর্ব
নতুনসিলেট২৪ডটকম / এএ
সম্পাদক: এসএম নাসির উদ্দিন।
উপ সম্পাদক: দেওয়ান জাকির হোসেন।
যোগাযোগ: পশ্চিম জিন্দাবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: natunsylhetnews@gmail.com
মুঠোফোন: ০১৭১৫৫০১১৫১
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পুর্ন বে-আইনি।



